সরকারের কাঁধে ভর করেই নদী দখল

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৮ এএম

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে আক্ষেপ জানিয়েছেন সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘ঢাকায় আগে যেসব খাল ছিল তা আর নেই। যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। আজ সিটি করপোরেশনসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নদী উদ্ধারের চেষ্টা করছে। কিন্তু নদী দখল যারা করছে, তারা সবাই সরকারের কাঁধে ভর করে এ কাজ করছে।’ 

গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত নাগরিক সুপারিশ : নদী সুরক্ষায় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের গুরুত্ব’ শিরোনামে এক নাগরিক সংলাপে সংসদ সদস্য কামরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ট্যানারি সরানোর পরও দূষণ কমেনি। আগে ট্যানারির কারণে বুড়িগঙ্গা দূষিত হতো, এখন ধলেশ্বরী দূষিত হচ্ছে। আর ধলেশ্বরীর দূষণ বুড়িগঙ্গাতেও আসছে। বুড়িগঙ্গা অনেক বড় একটি নদী ছিল, যা বর্তমানে সরু খালে পরিণত হচ্ছে।

কামরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘নদী দূষণমুক্ত করতে সরকার যে পরিকল্পনা নিয়েছে তার বাস্তবায়ন আমরা অচিরেই দেখতে পাব।’ নাগরিক সংলাপে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, ‘আমরা আদৌ জানি না, এটা উদ্ধার করতে কত দিন লাগবে বা আদৌ উদ্ধার করতে পারব কি না। আজকের এই সংলাপ অনুষ্ঠানে আমরা জানতে পারলাম ঢাকা শহর এবং তার আশপাশের নদী সুরক্ষায় ৫০টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পগুলোর জনসম্পৃক্ততা ও জন আকাক্সক্ষার প্রতিফলন দেখতে চাই আমরা।’ ইউএসএইড বাংলাদেশের ডিআরজি অফিস ডিরেক্টর অ্যালেনা ট্যানসি বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নদীপাড়ের ফ্যাক্টরিগুলো এসব নদী দূষণ করছে। সুশীল সমাজ ও জনগণ সবাই একসঙ্গে কাজ করছে, যা ঢাকার দূষণ ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার জনগণ বাংলাদেশের পাশে আছে সব সময়।  কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি কেটি ক্রোক, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএসএস) নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান বলেন, যে উৎস থেকে এই দূষণগুলো হচ্ছে, সেই সব জায়গায় নজর দিতে হবে। ইটিপি ও সেন্ট্রাল ইটিপি নির্মাণ করতে হবে।

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের বিরবেক স্কুল অব লর সহযোগী প্রভাষক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘৫০ বছরে আমরা দেখেছি প্রয় ১৫৮টি নদী শুকিয়ে গেছে। ঢাকার ৪টি নদীকে ইকোলজিক্যালি ডেড ঘোষণা করা হয়েছে। এ থেকে আমরা বুঝি যে অন্যান্য গুরুতর অপরাধের মধ্যে আরেকটি অপরাধ হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা। নদী রক্ষায় বাংলাদেশে আইনের অভাব নেই, কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত