মন্ত্রীর উদ্বোধনের প্রায় ছয় মাস পরেও ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার থেকে এক ফোঁটা পানিও সরবরাহ করতে পারেনি হবিগঞ্জ পৌরসভা। দেড় বছর আগে নির্মাণ শেষ হওয়া প্রায় ৯ কোটি টাকার এই পানি শোধনাগার এখনো পৌরসভার কাছে হস্তান্তরই করেনি হবিগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। কবে নাগাদ হস্তান্তর হতে পারে তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না সংস্থাটি। বর্তমানে পৌরসভার দুটি কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা পানি গ্রাহক চাহিদার অর্ধেক পূরণ করতে পারছে। অন্যদিকে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েলেও কাক্সিক্ষত পানি উঠছে না। ফলে সুপেয় পানির অভাবে পৌরসভায় দেখা দিয়েছে হাহাকার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি অর্থায়নে ৩৭টি জেলা শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ২০১৫ সালে হবিগঞ্জে পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কাজের অগ্রগতি ও বিল নিয়ে টানাপড়েন দেখা দেয়। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকে। পরে আবার কাজ শুরু হয়ে ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে শেষ হয়। কিন্তু নতুন সমস্যা দেখা দেয় বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে। পৌর কর্তৃপক্ষ পোস্টপেইড মিটার দাবি করলেও বিদ্যুৎ বিভাগ প্রিপেইড মিটার ছাড়া সংযোগ দিতে নারাজ। এ নিয়ে প্রায় এক বছর চিঠি চালাচালি, এমপি-মন্ত্রীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো কাজ না হওয়ায় সর্বশেষ প্রিপেইড মিটার নিতে সম্মত হয় পৌরসভা। বিদ্যুৎ বিভাগ ও পৌরসভার টানাপড়েনের মধ্যেই পানি শোধনাগারের প্রায় ১৫ লাখ টাকার সরঞ্জাম এবং তার চুরি হয়ে যায়। এসব পুনঃস্থাপন না করেই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গত ১১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামকে দিয়ে পানি শোধনাগারটি উদ্বোধন করা হয়।
হবিগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শহরে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে ২ হাজার ৩০০ আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে সকাল ও বিকেলে কালীবাড়ি পানি শোধনাগার থেকে ১ লাখ ৯৪ হাজার গ্যালন এবং বেবিস্ট্যান্ড পানি শোধনাগার কেন্দ্রের মাধ্যমে ১ লাখ ৪৪ হাজার গ্যালন পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাহিদার মাত্র ৫০ ভাগ পূরণ করে। পিটিআই এলাকায় নির্মিত নতুন শোধনাগারটি চালু হলে ৮০ ভাগ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে জানা গেছে।
এদিকে একাধিক গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান পাইপলাইন দিয়ে সরবরাহ করা পানি অনেক গ্রাহকের বাসাবাড়িতে পৌঁছায় না। লাইন বিচ্ছিন্নের আশঙ্কায় পানি না পেয়েও মাসে মাসে পানির বিল পরিশোধ করছেন তারা। চলমান তাপপ্রবাহে অসংখ্য মানুষ এখন তীব্র সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন।
পৌর পানি সরবরাহ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আবদুল কদ্দুছ শামীম বলেন, ‘বিদ্যুৎ মিটার নিয়ে যে ঝামেলা ছিল, তা শেষ হয়েছে। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখনো পৌরসভার কাছে পানি শোধনাগারটি হস্তান্তর করেনি। কবে হস্তান্তর করবে তাও জানি না।’
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী তাহমিনা তানভীন বলেন, ‘প্রকল্পটি থেকে ঘণ্টায় ৩৫০ ঘন মিটার পানি শোধন করা যাবে। ঠিকাদারকে অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার স্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তা ও ড্রেনের উন্নয়নকাজ অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না পেলে এসব উন্নয়নকাজের সময় পাইপলাইনসহ অন্য জিনিসপত্রের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। কিছু মেরামত করতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অর্থ চাইতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক হলে শোধনাগারটি হস্তান্তর করা হবে।’
