ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পাঁচটি ইউনিট মানবাধিকার লঙ্ঘনে দায়ী

  • মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবকটি ঘটনাই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাইরে
  • এর পরও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রতি সামরিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে মার্কিন প্রশাসন
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১৫ পিএম

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পাঁচটি ইউনিট পৃথক ঘটনায় চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এর পরও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রতি সামরিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে মার্কিন প্রশাসন।

ওয়াশিংটন ইসরায়েলের প্রধান সামরিক সমর্থক এবং পৃষ্ঠপোষক। প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করে থাকে।

মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

বিবিসি বলছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবকটি ঘটনাই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাইরে। এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চলমান ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের আগে গাজার বাইরে সংঘটিত হয়েছিল।

অভিযুক্ত চারটি সেনা ইউনিটের বিরুদ্ধে ‘সংশোধনমূলক’ ব্যবস্থা নিয়েছে ইসরায়েল। বাকি একটি ইউনিটের বিষয়ে ‘অতিরিক্ত তথ্য’ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর অর্থ হলো বর্তমানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সব কটি ইউনিট মার্কিন সামরিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বলেন, ইসরায়েলের পাঁচটি নিরাপত্তা বাহিনীর ইউনিট মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করেছে। এদের মধ্যে চারটি সংশোধন করলেও বাকি একটি ইউনিটের জন্য ইসরায়েল সরকারের সাথে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।

বাকি ওই ইউনিট হলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নেতজাহ ইয়েহুদা ব্যাটেলিয়ন। ১৯৯৯ সালে শুধু পুরুষ সেনাদের নিয়ে এ ইউনিট গঠন করা হয়েছিল। আল্ট্রা–অর্থোডক্স ইহুদিরা এ ইউনিটের সদস্য। এদের বিরুদ্ধে পশ্চিম তীরে এবং জেরুজালেমে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন (লেহি ল) অনুযায়ী, মার্কিন সহায়তা পাওয়া কোনো ভিনদেশি সেনা ইউনিট যদি ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত থাকে, তবে সেই ইউনিট ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ হারাবে।

১৯৯৭ সালে সাবেক সিনেটর প্যাট্রিক লেহির নেতৃত্বে যখন এ আইন করা হয়েছিল, তখন নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, জোরপূর্বক গুম এবং ধর্ষণকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

তাই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযুক্ত পঞ্চম ইউনিট তথা নেতজাহ ইয়েহুদা ব্যাটেলিয়ন মার্কিন সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা হারাবে কি না, সে সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে। এই ইউনিট নিয়ে ‘অতিরিক্ত তথ্য’ দেওয়া হয়েছে বলে জানানোর পর ধারণা করা হচ্ছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত