ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট গ্রহন আগামী ৮ মে। নির্বাচনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন-উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি টানা দুই মেয়াদের নৌকা প্রতিকের উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম (কাপপিরিচ) উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল হক সরকার মিন্টু(ঘোড়া) উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক ফেরদৌস পারভেজ(আনারস) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্দলীয় আব্দুর রহমান (মোটরসাইকেল)। ৎ
উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীরা জানায়, এবারের নির্বাচন দলীয় ভাবে বা দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। কিন্তু একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই প্রার্থী নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য ও ডিমলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফতাব উদ্দিন সরকারের ভাতিজা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আনারস প্রতীকের ফেরদৌস পারভেজ। তিনি দুই ধরনের পোষ্টার সাটিয়েছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি টানা দুই মেয়াদের নৌকা প্রতীকের উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম (কাপপিরিচ) অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানান, বিধিমালা পরিপত্র-৮ এর পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ব্যবহার সংক্রান্ত বাধা-নিষেধ এর ৫ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিজ ছবি ও প্রতীক ব্যতীত অন্য কারও নাম, ছবি বা প্রতীক ছাপাতে কিংবা ব্যবহার করতে পারবেন না।
সেখানে ফেরদৌস পারভেজ তার রঙ্গিন পোষ্টারে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে সকলের দোয়া আর্শিবাদ কামনায় বঙ্গবন্ধু , শেখ হাসিনা ও শেখ কামাল এবং নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীর চাচা আফতাব উদ্দিন সরকারের ছবি ছাপিয়ে পোষ্টার সাটিয়েছে। পাশাপাশি তিনি সাদা কালো পোষ্টারে প্রতীক দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। এতে তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পোষ্টার বিষয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ সদস্যদের উপজেলা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে মানা করেছেন। কিন্তু এমপি তার ভাতিজাকে জিতানোর জন্য রাতে গোপনে শিক্ষকদের সাথে মিটিং করছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও আনারস প্রতীকের ভোট চাচ্ছেন।
অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্দলীয় আব্দুর রহমান অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানান, এমপি আফতাব উদ্দিনের ভাতিজা শতশত মোটরসাইকেল নিয়ে প্রতিদিন শোডাউন করছে যা আচরণবিধি বহির্ভূত।
এছাড়া ওই প্রার্থী বিভিন্ন স্থানে বক্তব্যে, ভোট কেন্দ্রে তার আনারস প্রতীক ছাড়া আর কোন প্রার্থীর এজেন্ট থাকবে না। তিনি জানান, নির্বাচনে প্রচারনায় শব্দদূষণ কমানোর লক্ষ্যে মাইকের সাউন্ড ৬০ ডেসিবেলের নিচে রাখা; একটি অধিক শব্দ যন্ত্র (হর্ন) বা জনসভায় চারটির অধিক শব্দযন্ত্র (হর্ন) ব্যবহার করা যাবে না বলা হলেও ফেরদৌস পারভেজ তার কোন কিছুই মানছেন না। তিনি বলেন, আমরা বিষয়গুলো জেলা নির্বাচন অফিস ও রির্টানিং কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।
এ বিষয়ে আনারস প্রতীকের প্রার্থী এমপি আফতাব উদ্দিন সরকারের ভাতিজা ফেরদৌস পারভেজ তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, তার জনপ্রিয়তায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। দুই ধরণের পোস্টারের বিষয় জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান নি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ডিমলা রিটানিং অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রার্থীদের অভিযোগ ও দুই ধরণের পোস্টার লাগানোর ছবি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
