যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালি হত্যার জবাব চান প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০১ মে ২০২৪, ০৬:২২ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি তরুণ নিহত হওয়ার ঘটনার জবাব চেয়েছেন। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি উল্লেখ করে দেশটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তারও সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রে চলা ইসরায়েলবিরোধী মিছিলে পুলিশের হামলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর মানবাধিকার রিপোর্ট লেখে কিন্তু আয়নার নিজেদের চেহারা দেখে না।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি এসব কথা বলেন। পরে রুদ্ধদ্বার সভায় মিলিত হন আওয়ামী লীগ নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রে ছাত্রবিক্ষোভে পুলিশের হামলার ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই দেশে মানবাধিকার কতটুকু আছে সেটাই প্রশ্ন। কথা বলার স্বাধীনতা কতটুকু আছে সেটাই প্রশ্ন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অধিকার কতটুকু আছে সেটাই প্রশ্ন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের বাঙালি মারা গেছে। সেই দিনও দুজন মারা গেল। আমি প্রতিবাদ জানাই। তারা জীবন-জীবিকার জন্য গেছে। কিন্তু তাদের এভাবে হত্যা করবে কেন? তারা তো কোনো অপরাধ করেনি।’

বাচ্চা ছেলেও তাদের হাত (যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ) থেকে রেহাই পায় না উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘যারা এখন মানবাধিকারের গীত গায় এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার খুঁজে বেড়ায়, তারা কী জবাব দেবে। আমি সেই জবাব চাই। মানবাধিকার সংস্থা, বিচার বিভাগ, যারা আমাদের নিষেধাজ্ঞা দেয়, আমাদের ওপর খবরদারি করে তাদের কাছে জবাব চাই।’

যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালি কেন মারা যাবে, এ প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘ওইরকম মায়ের কোল থেকে নিয়ে হত্যা করা, শিক্ষকদের ওপর নির্যাতন করা এটা তো সম্পূর্ণ মানবাধিকার লঙ্ঘন করা।’

গত মার্চে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে পুলিশ উইন রোজারিও নামে এক বাংলাদেশি তরুণকে গুলি করে হত্যা করে। সে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। পুলিশের অভিযানের সময় মা তাকে কোলে আগলে রেখেছিল। এ ঘটনার পর উইনের পরিবার পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এ ছাড়া গত শনিবার নিউ ইয়র্কের বাফেলো শহরে দুই বাংলাদেশিকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেছেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমাদের দেশে কিছু রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া লোক আছেন। তাদের বক্তব্য আমাদের দেশের কিছু লোক, যারা বুদ্ধি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে যে, এ দেশের অতি বাম, অতি ডান সবাই এখন এক হয়ে গেছে, এটা কীভাবে হলো আমি জানি না। এ দুই মেরু এক হয়েছে, সারাক্ষণ শুনি আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করতে হবে। অপরাধটা কী আমাদের?’

সন্ধ্যায় শুরু হওয়া সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত