গুলি ছুড়ে উপজেলা চেয়ারম্যানকে বদির হুমকি!

আপডেট : ০৪ মে ২০২৪, ০৫:০৮ এএম

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি নুরুল আলমকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে। নির্বাচনী বিরোধের জেরে গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পশ্চিম মহেশখালীয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে টেকনাফ থানায় জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে এ তথ্য জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা পরিষদের আসন্ন নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল আলম।

জানা গেছে, তৃতীয় ধাপের তফসিলে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে। উপজেলা যুবলীগ সভাপতি নুরুল আলম এবারও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বদির পছন্দের প্রার্থী জাফর আলম। গত উপজেলা নির্বাচনেও জাফর আলমকে হারিয়ে নুরুল আলম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে নুরুল আলম বদির বিরোধী হিসেবে পরিচিত। আর জাফর আলম বদির অনুসারী।

তাকে লক্ষ্য করে সাবেক সংসদ সদস্য বদির গুলি ছোড়ার বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আমি ও আমার কর্মীরা হোয়াইক্যং ইউপির পশ্চিম মহেশখালীয়াপাড়ায় মুরব্বি এবং ইউপি সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হই। মহেশখালীয়াপাড়া মসজিদের সামনের বসে আমরা কথা বলছিলাম। এমন সময় উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো গাড়ি নিয়ে মসজিদের সামনে এসে দাঁড়ান। এরপর গাড়ি থেকে নেমে ফাঁকা এক রাউন্ড গুলি করেন। দ্বিতীয় রাউন্ড আমার দিকে তাক করেন। তখন স্থানীয় ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ফরিদুল আলম জুয়েল বাধা দিলে ওই রাউন্ডও ওপরের দিকে ছোড়েন। এরপর আমরা সেখান থেকে চলে যাই।’

তবে টেকনাফ থানায় জমা দেওয়া নুরুল আলমের লিখিত অভিযোগে গুলিবর্ষণের বিষয়টি উল্লেখ নেই।

এ বিষয়ে টেকনাফ থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল গনি বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি ও উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আলমকে বিবাদী করা হয়েছে।’

লিখিত অভিযোগের বরাত দিয়ে ওসি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল আলম ও জাফর আলম একই এলাকায় যান। তখন জাফর আলম ও সাবেক সংসদ সদস্য বদি উপজেলা চেয়ারম্যানকে মারধরের চেষ্টাসহ হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগে লেখা রয়েছে। অভিযোগের কোথাও গুলির কথা উল্লেখ করেননি বাদী। তবুও বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি কল রিসিভ করে এই প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর একটু পর কল করতে বলেন। পরে আবার কল করা হলে তিনি আর কল রিসিভ করেননি।

তবে ঘটনার সময় আবদুর রহমান বদির সঙ্গে থাকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী জাফর আলম বলেন, ‘বদি ভাই আমার সঙ্গে ছিলেন, তবে এ ধরনের (গুলিবর্ষণ) কিছু হয়নি। তার (নুরুল আলম) ভাই নুরুল বশর জাতীয় নির্বাচনে আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহীন আকতারের কাছে হেরেছেন। এরপর থেকেই বদি ভাইয়ের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে পরিবারটি।’

নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুর রহমান বদি। দুর্নীতির মামলায় সাজা পাওয়ায় একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বদির পরিবর্তে তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক কারবারের তালিকায় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বদির নাম আছে। ওই তালিকায় গডফাদার হিসেবে বদির চার ভাইসহ পরিবারের অন্তত ২৬ জনের নাম রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত