২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্সে হৃদযন্ত্রের ক্রীড়া বন্ধ হওয়ায় পরলোকে পাড়ি জমান ফুটবল বিশ্বের নক্ষত্র ডিয়েগো ম্যারাডোনা। মারা যাওয়ার কিছুদিন আগেই মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল তার। ধারণা করা হয়েছিল তার ধারাবাহিকতায় হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন ম্যারাডোনা। তবে সম্প্রতি এক মেডিকেল রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, তার মুত্যৃর অন্যতম কারণ হতে পারে কোকেইন।
২০২৩ সালের এপ্রিলে ঘোষণা করা হয়, ম্যারাডোনার মৃত্যুর সময় দায়িত্ব পালন করা আট ডাক্তার ও নার্সের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার কারণে রোগীর মুত্যু হয়েছে কি না-সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হবে। সেই আটজনের মধ্যে রয়েছেন ম্যারাডোনার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অগাস্তিনা কোসাশভ ও ডক্টর লিওপোল্দো লুক। তাদের আইনজীবীদের অনুরোধের ভিত্তিতে ম্যারাডোনার হার্ট অ্যাটাকের কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা করা হয়।
পরীক্ষক পাবলো ফেরারির ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘ম্যারাডোনার ওই সময়ের দ্রুত ও অনিশ্চিত হৃদক্রিয়ার পেছনে বাহ্যিক (এক্সটার্নাল ফ্যাক্টর) কোনো বস্তুর প্রভাব থাকতে পারে। সেটা হতে পারে কোকেইনের মতো নেশাজাতীয় দ্রব্য।’
নিজেদের কাজ ঠিকমতো না করার কারণেই আজ তারা এখানে। এখন তারা নিজেদের জেলে যাওয়া থেকে বাঁচাতে এইসব করছে। আমি কিছুতেই ভয় পাই না। প্রয়োজনে আমাকে ওদের মেরে ফেলতে হবে। তার আগে আমাকে চুপ করানো যাবে না
-জিয়ান্নিনা ম্যারাডোনা
এ তথ্য সামনে আসার পর চটেছেন ম্যারোডোনার মেয়ে জিয়ান্নিনা ম্যারাডোনা। নতুন এই রিপোর্টের প্রতিবাদে জিয়ান্নিনা অটোপসি রিপোর্টের ফল সামনে এনে দেখিয়েছেন- ম্যারাডোনার মৃত্যুর কারণ ছিল পালমোনারি এডেমা। জিয়ান্নিনা বলেন, ‘২০০৪ সালের ৯ মে থেকে আমার বাবা কোকেইন নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। অটোপসি রিপোর্টেও প্রমাণ হয় যেদিন বাবা স্বর্গে গেলেন ওইদিন তার হার্ট কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। ওই সময় তার শরীরে কী কী পাওয়া গেছে সেটিও ওই রিপোর্টে আছে। ওইদিন তার কণ্ঠ রোবটের মতো শোনাচ্ছিল কারণ তার ফুসফুসে কিছু একটা হচ্ছিল। পৃথিবীর সবাই জানে তিনি হার্টের রোগী। তারপরও হার্টের রোগের জন্য কোনো মেডিকেশন দেওয়া হয়নি। এবং কেউ তার ফুসফুসের দিকেও নজর দেয়নি।’
জিয়ান্নিনা যোগ করেন, ‘সবাই ব্যস্ত ছিল রুম পরিস্কার, অ্যাকাউন্ট খালি করার মতো কাজের দিকে। এমনকি বাবার চলে যাওয়া ও আমাদেরকে জানানোর মুহূর্তের মধ্যেও অনেক সময়ের ব্যবধান। এ জন্য পরে যতকিছুই করা হয়েছে তাতে কাজ হয়নি। কারণ অ্যাম্বুলেন্স আসেই দেরি করে।’
জিয়ান্নিনা মনে করেন দায়িত্বে অবহেলার কারণে যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে তারা আসলেই দোষী, ‘নিজেদের কাজ ঠিকমতো না করার কারণেই আজ তারা এখানে। এখন তারা নিজেদের জেলে যাওয়া থেকে বাঁচাতে এইসব করছে। আমি কিছুতেই ভয় পাই না। প্রয়োজনে আমাকে ওদের মেরে ফেলতে হবে। তার আগে আমাকে চুপ করানো যাবে না।’
ফেরারির ওই পরীক্ষার সমালোচনা করেছে প্রসিকিউটর কার্যালয়। তাদের মনে হয়েছে ৭২ ঘন্টার মধ্যে তাড়াহুড়ো করে এ পরীক্ষা করা হয়েছে। এমনকি অভিযুক্তদের দেওয়া ক্ষুদ্র প্রমাণের গুরুত্ব দেওয়ার জন্য চার বছরের তদন্তে পাওয়া প্রমাণগুলোকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করেছে প্রসিকিউটর কার্যালয়।
