বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন পেশাদার কূটনীতিক ডেভিড সেøটন মিল। পিটার হাসের পর ঢাকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে চীন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এই কূটনীতিককে মনোনয়ন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
গত বৃহস্পতিবার ডেভিড মিলের মনোনয়ন ঘোষণা করা হয় বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। অনুমোদনের জন্য মিলের নাম মার্কিন সিনেটে পাঠানো হয়েছে। শুনানির পর চূড়ান্ত হলে এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনাপত্তি দিলে ডেভিড মিল বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ২০২১ সালের ৯ জুলাই প্রেসিডেন্ট বাইডেন পিটার হাসকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে ঢাকায় পাঠানোর ঘোষণা দেন। মার্কিন কংগ্রেসে শুনানি এবং সিনেটের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৬ মাসের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ঢাকায় আসেন তিনি। একইভাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিদ্যমান প্রক্রিয়া শেষ হলেও ঢাকায় দায়িত্বগ্রহণে মিলের আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে তিনি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ডেভিড মিল বর্তমানে চীনের বেইজিংয়ে মার্কিন দূতাবাসে উপপ্রধান এবং অন্তর্র্বর্তীকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অর্থনীতি ও বাণিজ্য ব্যুরোর বাণিজ্যনীতি ও আলোচনাবিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তারও আগে একই বিভাগের নিষেধাজ্ঞানীতি ও বাস্তবায়ন ব্যুরোর পরিচালক ছিলেন মিল।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি ওয়াশিংটনে ডিষ্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার ফরেন সার্ভিস ইনস্টিটিউটের লিডারশিপ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট স্কুলের সহযোগী ডিন, ইউক্রেনের কিয়েভে মার্কিন দূতাবাসে অর্থনৈতিক বিষয়ের পরামর্শদাতা, অর্থনৈতিক ব্যুরোতে মুদ্রাবিষয়ক অফিসের উপপরিচালক এবং একই বিষয়ে চীন, হংকং, তাইওয়ান, গিনি ও ওয়াশিংটনে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগ দেওয়ার আগে ডেভিড মিল স্প্রিন্ট টেলিকমিউনিকেশনসে করপোরেট ফিন্যান্স কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। ভার্জিনিয়ায় জন্ম নেওয়া এই কূটনীতিক ডেলাওয়্যার ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস ও টুলেন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) শেষ করেন। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির আইজেনহাওয়া স্কুল থেকে আরেকটি স্নাতোকত্তর ডিগ্রি নেন। তা ছাড়া তিনি চীনা, ইউক্রেনীয় ও ফরাসি ভাষাও রপ্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগে অসামান্য অবদান রাখায় বেকার-উইলকিন্স পুরস্কার পেয়েছেন ডেভিড মিল।
