রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কমলগঞ্জে টমেটো চাষে বিপ্লব

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ০৪:০৬ এএম

গাছে ঝুলে থাকা ছোট থেকে মাঝারি নানা আকারের থোকা থোকা টমেটো যেন কৃষকের থোকা থোকা স্বপ্ন! কোনোটা কাঁচা, আবার কোনোটা পাকা। এমন কাঁচাপাকা টমেটোতেই বাজিমাত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কৃষকদের। মূলত গ্রাফটিং পদ্ধতির টমেটোতে এ অঞ্চলের কৃষকের সুদিন এসেছে। এ টমেটোর চারা বা ফল প্রাকৃতিকভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও অনেক কম। তাই এ এলাকার কৃষকরা টমেটো চাষে মনোযোগী বেশি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এখানকার উৎপাদিত টমেটোর বীজের নাম ‘বারি-আট’ ও ‘বারি-চার’। এগুলো বুনো বেগুনের চারার সঙ্গে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে লাগানো হয়ে থাকে। এ গাছগুলো দীর্ঘদিন ফল দিতে পারে। আর একেকটি গাছে প্রায় ১০ থেকে ১২ কেজি পরিমাণ টমেটো উৎপন্ন হয়ে থাকে। উপজেলার কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা গ্রাফটিং টমেটোর চারা বিক্রি থেকেই কয়েক লাখ টাকা আয় করেছেন। রাস্তার পাশে কিংবা ঝোপ-জঙ্গলে হেলাফেলায় বেড়ে ওঠা বনবেগুনই গ্রীষ্মকালীন এ টমেটো চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। বনবেগুনের সঙ্গে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করা হয়। বনবেগুনের দুই মাস বয়সী চারার গোড়ার দিকের অংশের সঙ্গে এক মাস বয়সী টমেটোর চারার ওপরের দিকের অংশ জোড়া দিয়ে করা হয় গ্রাফটিং। পানি সহনীয়, টমেটোর চারা বড় হয়ে ঢলে পড়ে না, রোগবালাইও তেমন হয় না। ভারী বৃষ্টিতেও এ টমেটো গাছ নষ্ট হয় না। গ্রীষ্মকালে প্রচুর ফলন হয়। যেখানে সাধারণ একটি গাছে ৫-১০ কেজি টমেটো মেলে, সেখানে গ্রাফটিং করা প্রতি গাছে মেলে ১৫-২০ কেজি। আধুনিক পদ্ধতির গ্রাফটিং চারার চাহিদা সারা দেশে রয়েছে। তাই কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের শুধু টমেটোর চারা ১০ থেকে ১২ টাকায় বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়েছেন। এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বিশ^জিৎ রায় বলেন, ‘একমাত্র মৌলভীবাজার জেলাতেই গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা উৎপাদন হয়।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত