নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় ওই হাসপাতালের এক কর্মচারী মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রবিবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মৃত মো. হানিফ (৫৫) হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন। তিনি নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনারায়ণপুর এলাকার মসজিদ বাড়ির মান্নাছ মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শহীদুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে সৈকতকে হাতিয়া উপজেলার ২০ শয্যা ভাসানচর হাসপাতালে সাময়িকভাবে বদলি করা হয়েছে।
মৃতের স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন হাসপাতালের কর্মচারী হানিফ। রবিবার সকালে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার সকাল ৯টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তখন চিকিৎসক শহীদুল ইসলাম সৈকত হাসপাতালে না থাকায় বিনা চিকিৎসায় মারা যান হানিফ। পরে অন্য একজন ডাক্তার এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় চিকিৎসকের দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ এনে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা হাসপাতালে আধাঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন।
স¦জনদের অভিযোগ, ভর্তির পর থেকেই তেমন কোনো সেবা পাননি হানিফ। বারবার চিকিৎসকদের কাছে ধরনা দিলেও কেউ সহযোগিতা করেননি। চিকিৎসকরা মৃতের মেয়েকে ধমক দিয়ে বের করে দেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘রোগীকে ঢাকা নেওয়ার পথে সে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে খারাপ হয়ে যায়। পরে তাকে ঢাকা না নিয়ে পুনরায় এই হাসপাতালে নিয়ে আসে। তখন তাকে ইমার্জেন্সিতে আনার পর কর্তব্যরত ডাক্তার ছিল না। এ ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ডাক্তারকে হাতিয়ার ২০ শয্যা ভাসানচর হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে।
