শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তাসকিনের বিশ্বকাপ ভাগ্য এমন কেন

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ০৬:২৮ এএম

শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের গেটে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন তাসকিন আহমেদ, তাকে ঘিরে আছে সাংবাদিকদের ক্যামেরা। ২০১৯ বিশ্বকাপের দল ঘোষণার পর তাসকিনের কান্নার ছবি সংবাদপত্র, অনলাইন গণমাধ্যম, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল হয়ে ছড়িয়ে গিয়েছিল গোটা বাংলাদেশে। তাসকিনের কান্নায় অনেকেই সমব্যথী হয়েছেন, কিন্তু তাতে তো আর বিশ্বকাপ খেলতে ইংল্যান্ড যাওয়া হয়নি তাসকিনের। আজ ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করবেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্বাচকরা। শেষ সময়ে এসে চোট পাওয়া তাসকিনকে কি বিশ্বকাপ দলে রাখবেন তারা,  নাকি আবারও দেখতে হবে তাসকিনের কান্নাভেজা চোখ?

শেষ পর্যন্ত যদি ডালাসের বিমানে জায়গা না হয় তাসকিনের, তাহলে হয়টো আগের মতো প্রকাশ্যে কাঁদবেন না। তবে ভেতরে ভেতরে ঠিকই গুমরে মরবেন। কারণ বিশ্বকাপ মানেই যে তাসকিনের কাছে দুর্ভাগ্যের অন্য নাম। ২০১৪-তে অভিষেক, পরের বছরই ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেললেন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে। এরপর ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝপথে ইডেনে পাকিস্তান ম্যাচের পর অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয় তাসকিনকে। ফিরে আসতে হয় মূলপর্বে মাত্র এক ম্যাচ খেলেই। পরে অবশ্য তাসকিনের বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা দেওয়া হয়।

চোট পেসারদের নিত্যসঙ্গী, তাসকিনের সঙ্গে সখ্য যেন আরেকটু বেশি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘একেকজনের শরীরের ধরন একেক রকম। এ জন্য বোর্ডের চিন্তার জায়গা থাকে। এছাড়া ফাস্ট বোলার যাদেরই দেখছেন, সবাইকে কোন না কোন ইনজুরি ম্যানেজ করতে হচ্ছে। হয়তো আমার শরীরের ধরন বা বোলিংয়ের ধরন ভিন্ন, এজন্য আমি এবার যেতে পারিনি। আমার তো টেস্টও খেলার কথা ছিল। শেষ মুহূর্তের কাঁধের চোট ম্যানেজ করার জন্য আমি বিরতিতে গিয়েছি।’ এবারে যোগ হয়েছে ডান দিকের পেশিতে চোট।  তাতেই বিশ্বকাপের আগে হিউস্টনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৩ টি-টোয়েন্টির সিরিজ না খেলাটা হয়ে গেছে নিশ্চিত। বিশ্বকাপের দলে থাকা নিয়েও আছে শঙ্কা। তবে দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন তাসকিন, চিকিৎসা চলবে সেখানেই।

বিশ্বকাপের মাঝপথে ফিরে আসা, বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে চোট পাওয়া এ সবের সঙ্গে তাসকিনের ভাগ্যে আছে আইপিএল বঞ্চনাও। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যোগাযোগ করে, কিন্তু বিসিবি থেকে মেলে না অনুমতি। বৃহস্পতিবার দুপুরেই সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেছিলেন, ‘যে জিনিসটা চলে গেছে, সেটা তো আর নিয়ন্ত্রণে নেই। ইনশাআল্লাহ্ সামনে (আইপিএল) খেলব। যখন ফাঁকা সময় পাব। শুধু আইপিএল নয়, এখন তো আরও অনেক লিগ আছে’। মোস্তাফিজকে আইপিএল খেলতে দেওয়া হয় আর তাসকিন এবং শরিফুল ইসলামকে কেন দেওয়া হয় না, এই নীতিটা কেমন সেই প্রশ্নে কিছুক্ষণ চুপ থাকেন তাসকিন, একটু ভেবে বলেন, নীতি প্রায় একই। আফসোস নেই কোনো।’

ওভারে ছয়টা ছক্কা হজম করলেও পরের ওভারে ফিরে আসার সুযোগ আছে একজন বোলারের। তাসকিন মাঠের শিক্ষা জীবনে কাজে লাগিয়ে এভাবেই ফিরে এসেছেন বারবার। কখনো ব্যক্তিগত ট্রেনারের কাছে অনুশীলন করে, কখনো কোনো কোচের অনুপ্রেরণায়। নিষেধাজ্ঞা, বঞ্চনা, চোট... সব মিলিয়েই তাসকিনের ভাগ্যটাই যেন খারাপ। বয়সটা ঊনত্রিশ ছাড়িয়ে ত্রিশে পড়ল, জেমস অ্যান্ডারসনের মতো ৪১ বছর পর্যন্ত যদি খেলতে না পারেন, তাহলে আর সর্বোচ্চ বছর ছয়েক খেলবেন তাসকিন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কমবে সেরে ওঠার গতি, বাড়বে চোটের ঝুঁকি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৪টি আসরে খেলা হয়েছে তাসকিনের। ১৬ ম্যাচে ১৮ উইকেট, সেরা বোলিং হোবার্টে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২৫ রানে ৪ উইকেট। ছন্দে থাকা তাসকিনের সামনে সুযোগ ছিল পরিসংখ্যানটা আরেকটু ভালো করার। পেশির চোট থেকে সেরে উঠে কতটা পারবেন তাসকিন? সেদিন খুব আশাবাদী হয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আইপিএলের মতো রান উৎসব হবে না। কেমন হবে ডালাস আর নিউ ইয়র্কের উইকেট সেটাও খোঁজখবর রেখেছিলেন। সেই সবই হয়তো দর্শক হয়েই দেখতে হবে তাসকিনকে। বড় আসরে তার ভাগ্যটাই যে বেশিরভাগ সময় এমন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত