মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফ্রিল্যান্সিংয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর সাফল্য

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ১১:০১ পিএম

বর্তমান সময়ে মাদ্রাসা পড়ুয়ারা ইমামতি কিংবা শিক্ষকতা ছাড়াও বিভিন্ন পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। নোয়াখালীর মাইজদীর হাবিবুর রহমান এমনই একজন। তিনি ফ্রিল্যান্সিং করে সাফল্য পেয়েছেন। অনন্তপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হাবিব মাসে আয় করছেন ৫০ হাজার টাকার বেশি। আমেরিকান একটি কোম্পানিতে রিমোট জব করছেন। বন্ধুদের নিয়ে খুলেছেন একটি আইটি প্রতিষ্ঠান।

হাবিব ১৭ বছর বয়সে কোরআনের হাফেজ হন। কিছুদিন ইমামতি করেছিলেন স্থানীয় এক মসজিদে। ২০২২ সালে তার ফ্রিল্যান্সিংয়ের শুরু হলেও সেটা একদমই ভালো ছিল না। প্রথমে ইউটিউব দেখে শুরু করেন। ভালো কোর্স করার মতো তেমন আর্থিক অবস্থাও ছিল না। অনেক মানুষ নেতিবাচক কথা বলত। তাদের সমালোচনায় দোদুল্যমান হয়ে হাবিব ভাবেন, এসবে ভবিষ্যৎ নেই। একবার ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাও করেন। কিন্তু দমে যাননি। কিছুদিন পরই অদম্য হাবিব ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিজের সাফল্য আঁচ করতে পারেন। সাত মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। নিজের কাজ বিহান্স পোর্টফোলিওতে আপলোড দিতেন। আর এতেই শুরু হয় তার দিনবদলের সূচনা।

বর্তমানে বিহান্স পোর্টফোলিওতে তার কাজের চাহিদা ভালো। এখান থেকেই কাজ দেখে চায়না  কোম্পানি যোগাযোগ করে। এভাবেই প্রথম কাজ পান। ১০০ ডলারের চায়না কোম্পানির কাজ তিনি সফলভাবে শেষ করেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ফ্রিল্যান্সিংয়ে লেগে থাকলে দ্রুত সাফল্য পাওয়া যায়। স্বাবলম্বী হওয়া যায়। এটাই তার ফ্রিল্যান্সিং বেছে নেওয়ার কারণ বলে জানান। হাবিব বাসায় বসেই গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে দেশ-বিদেশের কাজ করেন। ইউএসএর যে কোম্পানিতে তিনি রিমোট জব করেন সেখানে বাংলাদেশি সময় অফিস টাইম রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত। সময়ের এই পার্থক্য কিছুটা সমস্যায় ফেলে বলে হাবিব মনে করেন।

পড়াশোনা এবং ফ্রিল্যান্সিং দুটোই একসঙ্গে একটু কষ্ট হয় বটে। তবে হাবিব সব ব্যবস্থা করে নেন। পড়ার সময় পড়লে এবং কাজের সময় কাজ করলে কোনো সমস্যা হয় না। যেহেতু বাসায় বসে যখন তখন কাজ করা যায়। যে সময়ে টিভি দেখে, মোবাইল দেখে সময় নষ্ট করা হয় সেই সময়ে যদি কোনো একটা কাজে দক্ষ হওয়ার পেছনে ব্যয় করা যায়, তবে পড়াশোনা শেষ করে অনেক ভালো কিছু করা সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন হাবিব। হাবিবুর ফ্রিল্যান্সিংয়ের আলো ছড়িয়েছেন পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও। তিনি তার ছোট বোনদের ফ্রিল্যান্সিং শেখানোর কাজ শুরু করেছেন। অচিরেই তারাও কাজ করে আয়ের পথ দেখবে বলে আশা করছেন। রিমোট জবের পাশাপাশি হাবিব ১০টি প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। মাদ্রাসায় পড়াশোনা শেষ করে যদি তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায় এবং নির্দিষ্ট একটা কাজে বেশ দক্ষ হওয়া যায়, তাহলে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব বলে মনে করেন হাবিব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত