বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ছেলেকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাবিক রোকনের মা

আপডেট : ১৭ মে ২০২৪, ০৯:০০ এএম

বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি আসলেই ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন রোকনের মা লুৎফুর নাহার। ছেলের চেহারার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন কৃষক বাবা মিরাজ আলী। এ সময় বাড়িতে তৈরি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশের। সোমালিয়া জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া এমডি আব্দুল্লাহর নাবিক রোকন উদ্দিনকে ফিরে পেয়ে আনন্দের অশ্রুতে তাকে বরণ করে নেন পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বাঘরোয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছেছেন এমডি আব্দুল্লাহর থার্ড ইঞ্জিনিয়ার রোকন উদ্দিন। এর আগে গত ১৪ মে এমভি আব্দুল্লাহ চট্টগ্রামের মহেশখালি বন্দরে পৌঁছায়। পরবর্তীতে কোম্পানির সকল নিয়ম কানুন মেনে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন রোকন।

রোকন উদ্দিন সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের বাঘরোয়া গ্রামের কৃষক মিরাজ আলী ও লুৎফুর নাহার দম্পতি ছেলে। 

গত ১২ মার্চ সোমালিয় জলদস্যুদের হাতে জিম্মি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ'র বন্দি হওয়া ২৩ নাবিকের একজন নেত্রকোণার রোকন উদ্দিন। তিনি বাড়িতে পৌঁছার খবর পেয়ে এলাকার লোকজন তার বাড়িতে ছুটে আসে তাকে একনজর দেখার জন্য। অনেকেই আবার আসার খবর শুনে ২-৩ ঘণ্টা আগে থেকেই বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। রোকনের বাড়ির ভাবি-ভাতিজা সকলেই আনন্দে আত্মহারা। প্রত্যেকে সন্ধ্যার আগে থেকেই পথ চেয়ে বসে ছিলেন কখন রোকন বাড়িতে আসবে। তার বাড়িতে আসার খবর শুনে এলাকার বন্ধু মহল ও পরিচিতজনরা ফুলের শুভেচ্ছা জানাতেও এসে ভিড় করেন। বাড়ি আসার পর রোকনের স্বজনদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কেউ আনন্দে হাসছে আবার কারো কারো চোখ দিয়ে ঝরছিল আনন্দের অশ্রু।

রোকনের ভাবি বলেন, রোকন আমার হাতের যত ধরনের রান্নার করা খাবার খেতে পছন্দ করে সব ধরনের রান্না করে রেখেছি। আজকের দিনটা ঈদ আনন্দের চেয়েও আমাদের কাছে অনেক বড় একটি দিন।

রোকনের মা লুৎফুন নাহার বলেন, আমার ছেলে অক্ষত অবস্থায় আমার কাছে ফিরে আশায় সরকারকে এবং তার কর্মস্থল কোম্পানির কর্তৃপক্ষদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

এমডি আব্দুল্লাহর থার্ড ইঞ্জিনিয়ার রোকন উদ্দিন বলেন, বন্দিদশা থাকা অবস্থায় প্রতিটা মুহূর্ত ছিল আতঙ্কের। আমরা মুসলমান হওয়ায় এবং রোজা রাখার কারণে সোমালিয় দস্যুরা আমাদের সাথে সহনশীল আচরণ করেছে। তবে এই সময়টা ছিল খুব আতঙ্কের। সপ্তাহে একদিন পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলার সুযোগ দিত এবং ওই সময় পরিবারের সদস্যদের সাথে হাসিমুখে কথা বলতাম। যাতে পরিবারের কেউ দুশ্চিন্তা না করে। সর্বোপরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং রাষ্ট্রের কলা কৌশলী ও গণমাধ্যমের বদৌলতে দ্রুত সময়ের মধ্যে মুক্তি লাভ করেছি।

উল্লেখ্য, রোকন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার পাশ ২০১৫ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে বর্তমান শিপ কোম্পানিতে যোগদান করেন। এরপর ১২ মার্চ প্রথম রোজার দিন ভারতীয় মহাসাগরের সোমালিয় জলদস্যুদের হাতে বন্দী হন।  

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত