তারেকুলের বাড়িতে আজ ঈদ

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ০৫:৩৩ পিএম

বাড়িতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মা জড়িয়ে ধরেন তারেকুলকে। চারদিকে স্বজনদের ভিড়। ঘরের এক কোনায় দাঁড়িয়ে অবাক চোখে স্বামীর দিকে তাকিয়ে কান্না করছেন জুথী। এই যেন দীর্ঘ দিনের সকাল উদ্বেগ মুছে যাওয়ার আনন্দাশ্রু।

সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত এমভি আব্দুল্লাহর থার্ড অফিসার তারেকুল ইসলামের বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ছকড়িকান্দি গ্রামে। তার বাড়ি ফেরাতে গ্রামটিতে বইছে আনন্দের জোয়ার। আনন্দের কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনসহ গ্রামবাসীর অনেকে।

আজ বুধবার (১৫ মে) ভোর ৬টা ১০মিনিটে বড় ভাই হাসানের সঙ্গে মধুখালী উপজেলার ছকড়িকান্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছান তারেকুল। এ সময় বাড়িতেতে ঢুকতেই হাসি ফোটে সকলের মুখে। তারিকুলকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসী।

তার বাড়িতে আসার খবর পেয়ে ভোর থেকেই চলছে নানা আয়োজন। তারেকুলের স্ত্রী আগে থেকেই কেক এনে রেখেছিলেন। তারেকুল আসার পরই সবাই মিলে কেক কাটলেন। এরপর একে অপরকে খাইয়ে দিলেন। তৈরি করা হচ্ছিল তারেকুলের পছন্দের চিতই পিঠা, আর মাংস। এছাড়া শোল মাছসহ নানা পদের রান্নাও করেছে তার পরিবার।

তারেকুলের মা হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমরাতো এবার ঈদ করতে পারি নাই। আগেই বলেছিলাম, ছেলে যেদিন বাড়িতে আসবে, সেই দিনই আমাদের ঈদ। আজ আমাদের ঈদের দিন।

তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেকে কাছে পেয়ে কী যে ভালো লাগছে তা বোঝাতে পারবো না। নামাজ পড়েছি, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি। ছেলের পছন্দের বিভিন্ন খাবার রান্না করছি। আত্মীয়-স্বজন, আর পাড়া-প্রতিবেশীরা আসছেন, সবাই আমরা অনেক খুশি।’

তারেকুল ইসলাম বলেন, জীবনের ওই কটা দিন স্মরণীয় থাকবে। এখন অনেক ভালো লাগছে। ভেবেছিলাম হয়তো আর কোনদিন কারো সঙ্গে দেখা হবে না। আল্লাহর রহমতে বাবা-মায়ের দোয়ায় সুস্থভাবে ফিরে এসেছি। আমাদের উদ্ধারে যারা এগিয়ে এসেছেন, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দুর্বিষহ দিন কেটেছে। কখনও ভালো, আবার কখনও খারাপ। সব সময় আতঙ্কের মধ্যদিয়ে দিন পার করতে হয়েছে। এ রকম দিন যেন কারো জীবনে না আসে। তারপরও সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পেরেছি, এতেই অনেক ভালো লাগছে।’

তারেকুলের স্ত্রী জুথী বলেন, ‘অনেক খুশি আমি, এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। তারেকুলের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে বাড়িতে। আজকের দিনটি আমাদের ঈদ।’

অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী মো. দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট তারেকুল ইসলাম। ছকড়িকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া শেষ করে চলে যান ঢাকায়। সেখানে মিরপুরের ড. মোঃ শহীদুল্লাহ্ কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। ২০১২ সালে ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে। ২০১৪ সালে নটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে যোগ দেন চাকরিতে। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে নতুন করে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর থার্ড অফিসার হিসেবে। ভারত মহাসাগর অতিক্রমকালে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়েন তিনিসহ ওই জাহাজের সবাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত