এমভি জাহান মণিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরবেন নাবিকরা

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ১১:০৩ পিএম

১৪ বছর আগে সোমালিয়ান জল দস্যুদের হাতে জিম্মি হয়েছিল এমভি জাহান মণি। সেই জাহাজের নাবিকরা ১০০ দিন জিম্মি থাকার পর মুক্তিপণের বিনিময়ে দস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল। এমভি আবদুল্লাহও সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হয়ে ৩১ দিন ছিল। পরবতীর্তে মুক্তিপণের বিনিময়ে আবদুল্লাহর নাবিকরাও ছাড়া পায়। কিন্তু আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ মে) চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের জেটিতে জাহান মণিতে করেই পৌঁছাবে আবদুল্লাহর নাবিকরা।

এটা কি সেই জাহান মণি? যে জাহান মণি ২০১০ সালে সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হয়েছিল। এই প্রশ্নের উত্তর জানতে কথা হয় জাহাজের মালিক প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলামের সাথে।

তিনি বলেন, ‘সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়া সেই জাহান মনি অনেক আগেই স্ক্র্যাপ করে বিক্রি করে দেয়া হয়। কিন্তু জাহান মণি নামটির সাথে আমাদের কোম্পানির দুর্বলতা রয়েছে। তাই সেই নামটি রেখে দেয়ার জন্য একটি লাইটার (ছোটো জাহাজ) জাহাজের নামকরণ করা হয়েছে জাহান মণি। আর এই জাহাজে করেই নাবিকরা আসবে।’

আবদুল্লাহর জিম্মি নাবিকরা ১৪ বছর আগে জিম্মি হওয়া জাহান মণিতে জেটিতে ফিরবে তা নামেই তো অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করবে জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, যদিও এই জাহাজ সেই জাহাজ নয়, তারপরও নামতো এক। এরমধ্যে ১৪ বছর আগের একটা স্মৃতি চলে আসবে।

এদিকে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কাছ থেকে জিম্মির দুই মাস পর নিজের দেশের মাটি ও আবহাওয়ার দেখা পেল নাবিকরা। আজ সোমবার বিকেলে ২৩ নাবিক নিয়ে এমভি আবদুল্লাহ কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পৌঁছে। কুতুবদিয়ায় পৌঁছেই জাহাজের ক্যাপ্টেন আবদুর রশিদ ভয়েস মেসেজে বিকেল ৬টার সময় কুতুবদিয়ায় নোঙর করার কথা জানান।

তিনি আরও বলেন, কিছুক্ষণ পরই জাহাজ থেকে পণ্য (চুনাপাথর) খালাস কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। জাহাজের সকল নাবিক সুস্থ রয়েছেন।

অপরদিকে জাহাজটির মালিক কর্তৃপক্ষ কেএসআরএম এর প্রধান নির্বাহী মেহেরুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘ নাবিকরা পণ্য খালাসের পর আগামীকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে ৪টায় লাইটার জাহাজ এমভি জাহান মনিতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। সেখানে চট্টগ্রাম বন্দর কতৃর্পক্ষের পক্ষ থেকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগর থেকে এমভি আবদুল্লাহর সেকেন্ড অফিসার মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রথম অস্ত্র ঠেকিয়েছিল সোমালিয়ান জলদস্যুরা।  জাহাজটি মোজাম্বিক থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাচ্ছিল। জাহাজটি ছিনতাইয়ের পর সোমালিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলের গ্যরাকাদে নোঙর করেছিল। পরবর্তীতে অনেক নাটকীয়তা অনিশ্চয়তা পর গত ১৩ এপ্রিল ভোর ৩টায় সোমালিয়ান দস্যুদের কাছ থেকে মুক্তি পায় এমভি আবদুল্লাহ ও ২৩ নাবিক। দস্যুদের ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুক্তিপণ হিসেবে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনটি ওয়াটার প্রুফ লাগেজে উড়োজাহাজের মাধ্যমে পানিতে ফেলা হয়। ডলার গণনার পর নিশ্চিত হয়েই জাহাজ ছেড়ে যায় ৬৫ জন জলদস্যু। এর আগে একই মালিক গ্রুপের এমভি জাহান মনিকে ২০১০ সালে জিম্মি করেছিল একই গ্রুপের জলদস্যুরা। সেবারও মুক্তিপণ দিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। মুক্তি পাওয়ার পর জাহাজটি ২৭ এপ্রিল দুবাই পৌঁছে ৫৫ হাজার টন কয়লা খালাস করে ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় জাহাজটি কুতুবদিয়ায় নোঙর করা হয় এবং দুবাই থেকে আনা চুনাপাথর খালাস কার্যক্রম শুরু করে। আগামীকাল মঙ্গলবার জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে পৌঁছাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত