ব্রিজ আছে কিন্তু চলতে পারে না কোনো ভারী ও মাঝারি যানবাহন। ফলে ১৮-২০ হাজার মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ব্রিজটি। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরউত্তরবন বাজার সংলগ্ন এই ব্রিজটির অবস্থান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় অর্ধশত বছর পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা কাঁচামাটিয়া নদী বেষ্টিত বেতাগৈর ইউনিয়নের চরকোমড়ভাঙা, চরকাজিয়ালি, চরভেলামারি, নয়ারচর,চরকামাটখালীসহ আশপাশের আরও বেশ কয়েক হাজার জনসাধারণ একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হয়ে একই ইউনিয়নের কামাটখালী বাজার সংলগ্ন দেওয়ানগঞ্জ-মধুপুর আঞ্চলিক সড়কে যোগাযোগ রক্ষা করতো।
প্রায় অর্ধশত বছর পূর্বে মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে বাঁশের সাঁকো ভেঙে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের ব্যবধানে এই চরাঞ্চালের মানুষের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে অনেক, বেড়েছে জীবনযাত্রার মান। তৎকালীন সময়ে পায়ে হেঁটে নদী পারাপারের জন্য নির্মিত ব্রিজটি প্রস্থে মাত্র ৬ ফুটের মতো, দৈর্ঘ ৫০ ফুটের কিছু উপরে। ব্রিজটি প্রস্থে কম হওয়ায় মাঝারি ও বড় আকৃতির কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না,ছোট আকৃতির অটোরিকশা কোনো মতে পারাপার হতে পারে। ফলে প্রায় বিশ হাজার জনসাধারণের জন্য ব্রিজটি গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ আহাম্মেদ জানান, বছর তিনেক পূর্বে চরউত্তরবন বাজারে আমার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তখন ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসলেও এই ব্রিজের কারণে বাজারে গাড়ি ঢুকতে না পারায় আমি কয়েক লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হই।
তিনি আরও জানান, চরবেতাগৈর ইউনিয়নটি নান্দাইল উপজেলার বৃহৎ চরাঞ্চাল এলাকা হওয়ায় ব্যাপক ভাবে সকল ধরণের সবজির ফলন হয়ে থাকে, এসব সবজি বাজারজাত করণে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হয় কৃষকরা। এছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স সহ কোনো ধরণের যানবাহন পারাপার করতে পারে না। তিনি জরুরি ভিত্তিতে বড় করে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের, ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ আহাম্মদ জানান, জনসাধারণের দূর্ভোগের কথা মাথায় নিয়ে নতুন করে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী শাহাবো রহমান সজিব জানান, নতুন করে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।
