পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চর মোন্তাজ ইউনিয়নের উত্তর চর মোন্তাজ গ্রামে সড়কের মধ্যে দুটি বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই নির্মাণকাজ শেষ করেছেন ঠিকাদার। এতে ওই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও পথচারীরা ঝুঁকিতে রয়েছেন। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি সড়ক প্রশস্ত হলেও খুঁটির কারণে কোনো সুফল মিলছে না।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রাঙ্গাবালী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন-উপজেলা সংযোগ সড়কের অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার ব্রিজ প্রকল্পের আওতায় চর মোন্তাজ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ মতিনের বাড়ি সংলগ্ন খালের ওপর ৬৬ মিটার সেতু ও ৩৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৬ কোটি টাকা। কিন্তু প্রশস্ত করতে গিয়ে সড়কের মধ্যে দুটি বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গেছে। খুঁটিগুলো না সরিয়েই প্রায় ৬ মাস আগে কাজ সম্পন্ন করেছেন ঠিকাদার।
স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়নের চর লক্ষ্মী ও চর মারগ্যারেট গ্রামবাসীর সহজে ইউপি কার্যালয়ে যাতায়াতের পথ এই সড়ক। কিন্তু সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দুটি বিদ্যুতের খুঁটির কারণে যাত্রী ও চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় ইজিবাইক চালক মো. সলেমান বলেন, ‘সড়কের ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকার কারণে দিনে যেমন-তেমন, রাতে ইজিবাইক চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। বিশেষ করে বিদ্যুৎ না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে বেশি।’
চর মোন্তাজ ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এ সড়ক দিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়া করে। সড়ক দিয়ে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চলাচল করে। এর মধ্যে একটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। সড়কের মাঝ থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া উচিত।’
চর মোন্তাজ ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবু সামসুদ্দিন বলেন, ‘সড়কের ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।’
ঠিকাদার মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘দরপত্রে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ ছিল না। এলজিইডি ও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিকে খুঁটি দুটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। তবে বিদ্যুৎ অফিসের কোনো তৎপরতা দেখিনি। তাই খুঁটি রেখেই কাজ শেষ করতে হয়েছে।’
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘চর মোন্তাজ ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে ভোলার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। বিষয়টি তাদের অবহিত করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর চেষ্টা চলছে।’
ভোলার দক্ষিণ আইচা পল্লীবিদ্যুতের সাব-জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. কাওসার আহমেদ বলেন, ‘চর মোন্তাজে সড়কের মধ্যে বিদ্যুতের খুঁটি থাকার বিষয়টি জানা নেই। তবে বিদ্যুতের খুঁটি সরানো একটু সময়ের ব্যাপার। এলজিইডির চিঠি পাওয়ার পর এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
