কিরগিজস্তান থেকে দেশে ফিরতে চান শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ০৬:১৯ এএম

কিরগিজস্তানে বিদেশিদের ওপর হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে বাংলাদেশের অন্তত ৮০০ মেডিকেল শিক্ষার্থীর। তারা চার্টার্ড ফ্লাইটে করে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। দেশটিতে মিসরের কয়েকজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের জের ধরে বিদেশিদের ওপর হামলা চালানো হয়। এরপর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।

বিশকেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ড. জেরিত ইসলাম বলেন, শনিবার রাত থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে বড় কোনো হামলা হয়নি। কিন্তু কিছু স্থানীয় তরুণ বিদেশিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও লুটপাট চালিয়েছেন। তিনি জানান, তারা আগামী জুন মাসে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু এখন তারা চার্টার্ড ফ্লাইটে করে দেশে ফিরে পরে অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়ার কথা ভাবছেন।

জেরিত আরও বলেন, ‘আমরা উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখান থেকে জানানো হয়েছে যে তারা কিরগিজস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাদের সহায়তা করবেন। কিন্তু আমরা যদি নিজেদের উদ্যোগে আলাদা আলাদা করে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করি, তাহলে সেটা নিরাপদ হবে না।’

এদিকে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব কিরগিজস্তানের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তানভীর মেহরাব জানিয়েছেন, এখানকার বর্তমান পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। তাদের হোস্টেলে স্থানীয়রা আক্রমণ করেছিল।

তিনি বলেন, ‘মূলত শনিবার আমাদের হোস্টেলে আক্রমণ করা হয়েছিল। আক্রমণ করা হচ্ছে আমরা যারা হোস্টেলের বাইরে বিভিন্ন বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি তাদের ওপর। বাসায় এসে দরজায় নক করা হচ্ছে। আমরা খাবার কিনতে নিচে যেতে পারছি না। আমরা এখানে নিরাপদে নেই। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান হোক।’

এসব বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে বাংলাদেশি ছাত্র জখম হয়েছে এমন কোনো খবর নেই। আমরা কিরগিজস্তান সরকারকে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। এ ছাড়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে দেশটিতে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলেছি।’

এদিকে এমন ঘটনার পর ভারত ও পাকিস্তান নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে। চালু করেছে হটলাইন, যাতে কোথাও তাদের দেশের নাগরিক আক্রান্ত হলে সাহায্য পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া শনিবার পাকিস্তান বিশেষ ফ্লাইটে করে নিজ দেশের ১৪০ শিক্ষার্থীকে কিরগিজস্তান থেকে ফিরিয়ে এনেছে। আরও ৩টি বিশেষ ফ্লাইটে ৫৪০ শিক্ষার্থীকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে তারা।

প্রসঙ্গত, ১৩ মে রাজধানী বিশকেকে স্থানীয় দুই-তিনজনের সঙ্গে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মিসরীয় কয়েকজনের সংঘর্ষ হয়। ১৬ মে সন্ধ্যায় বিদেশিদের ওপর হামলা শুরু করে স্থানীয়রা। শহরে যেসব বাড়িতে বিদেশিরা থাকেন, সেগুলোতে হামলা চালিয়ে লোকজনকে পেটানো এবং ভাঙচুর করা হয়। মেডিকেল কলেজগুলোর হোস্টেলেও তারা ঢুকে পড়ে। বিদেশি মেয়েদের ওপরও চালানো হয়েছে নির্যাতন। বাংলাদেশি একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, শহরজুড়ে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।

কিরগিজে যাচ্ছেন বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত : কিরগিজের রাজধানী বিসকেকের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মো. মনিরুল ইসলাম।

কিরগিজস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাস নেই এবং উজবেকিস্তান থেকে কিরগিজে বাংলাদেশের স্বার্থ দেখাশোনা করেন মো. মনিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, ‘আমি কিরগিজে দ্রুত যাওয়ার চেষ্টা করছি এবং সেখানকার পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করব।’

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, ‘আমাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে বলে তারা আমাদের জানিয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের চার্টার ফ্লাইটে বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। বিষয়টি যথাযথ কর্র্তৃপক্ষকে জানাবেন তিনি।

এদিকে গতকাল রবিবার কিরগিজ রাজধানী বিসকেকে গত ১৭ মে রাতে সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমরা উজবেকিস্তানে আমাদের দূতাবাসের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, একই সঙ্গে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে স্বীকৃত দূতাবাস হিসেবে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে অধ্যয়নরত আমাদের শিক্ষার্থীদের ও কিরগিজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগে রয়েছে।

এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশি ছাত্রদের কোনো গুরুতর আহত বা হতাহতের খবর নেই। দূতাবাস ইতিমধ্যেই তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি জরুরি যোগাযোগ নম্বর শেয়ার করেছে, যাতে এ বিষয়ে যেকোনো সমস্যার জন্য শিক্ষার্থীরা যোগাযোগ করতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত