সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ইরান কী বলছে

আপডেট : ২১ মে ২০২৪, ১০:৫৬ এএম

ড. দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব এশিয়া সেন্টারের পরিচালক। গাজাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। এর মধ্যে ইরান-ইসরায়েল নজিরবিহীন সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিহত হলেন। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের সাঈদ জুবেরী

দেশ রূপান্তর : বিভিন্ন সময়ে ইরানের রাজনীতিক, কূটনীতিক, সামরিক ব্যক্তিত্ব এবং বিজ্ঞানীরাও গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দোল্লাহিয়ানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার ঘটনাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

দেলোয়ার হোসেন : এ ধরনের ঘটনায় তো আসলে আমি অনুমান করে কথা বলতে চাই না। সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক ধরনের মতামত আছে। কিন্তু আমরা গণমাধ্যমে যেটা দেখছি, পড়ছি বা ইরানের পক্ষ থেকে যেটা বলা হয়েছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। এর বাইরে অনেকে অনুমান করে অনেক কিছু পাচ্ছে। কিন্তু আমি বলব, এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ইরান কী বলছে। ইরান এখন কি এখন পর্যন্ত এটাকে দুর্ঘটনা হিসেবে বলছে? ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ৯জনের পরিণতি এখন সবার জানা। সেখানকার যে খারাপ আবহাওয়ার বিষয়টা, বিশেষ করে কুয়াশার যে বিষয়টি ছিল এসবের কারণে মূলত এটাকে একটা হেলিকপ্টার ক্র্যাশ বা একটা দুর্ঘটনা হিসেবেই আমরা দেখতে পাচ্ছি।

দেশ রূপান্তর : বিভিন্ন সময়ে যে...

দেলোয়ার হোসেন : কয়েক দশক আগে ইরানের আরেক রাষ্ট্রপতি বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিলেন। এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেভেলের নেতারা আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। তবে সারা বিশ্বের প্রেক্ষাপটেই বলা যায় এটি একটি ভয়াবহ এবং একটি দুঃখজনক ঘটনা। তবে এখন পর্যন্ত যেহেতু ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে কোনো সন্ত্রাসী হামলা বা আততায়ীর হাতে গুপ্তহত্যা হিসেবে দাবি করা হয়নি, ফলে আমরাও সে কথা বলতে পারছি না। তবে এ বিষয়গুলো নিয়ে নিশ্চয় বিভিন্নভাবে কথা হচ্ছে।

দেশ রূপান্তর : এ ঘটনায় ইরান কী ধরনের ক্ষতির মধ্যে পড়ল? অভ্যন্তরীণ এবং কূটনৈতিক...।

দেলোয়ার হোসেন : সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যে এ দুর্ঘটনায় ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিতীয় ব্যক্তি, প্রেসিডেন্ট রাইসি মহোদয় মারা গেলেন। আমরা জানি যে ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি আলি খামেনি, যিনি মূলত সবার ওপরে অবস্থান করেন। তারপরই ইরানের প্রেসিডেন্ট। এ ধরনের একটি দুর্ঘটনা বা এ ধরনের একটি মৃত্যুর পরে স্বাভাবিকভাবেই ইরানের ভেতরে যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব আছে বা ইরানের আঞ্চলিক পর্যায়ে বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে ভূমিকা আছে, সে বিষয়গুলো সামনে চলে আসবে বা আসছে। এই ঘটনা কীভাবে ইরানে শূন্যতা তৈরি করেছে এবং কীভাবে সে শূন্যতা থেকে দ্রুত তারা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে সে বিষয়গুলো সামনে আসছে। সে ক্ষেত্রে ইরানের যে প্রেসিডেন্ট নিহত হলেন তিনি কেমন বা কোন পর্যায়ের নেতা ছিলেন এবং কী ভূমিকা রাখছিলেন সেসব পর্যালোচনায় আসছে। ২০২১ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে ইরানের চিফ জাস্টিস ছিলেন। বিচার বিভাগের প্রধান ছিলেন। এটি একটি ব্যতিক্রম। কারণ ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সেই অর্থে কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল না এবং কোনো সামরিক ও পররাষ্ট্র বিষয়ক অভিজ্ঞতাও ছিল না। তিনি বিচারকার্যের অভিজ্ঞতা দিয়েই নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। ফলে তিনি রিফর্ম করা অথবা বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে অতটা আগ্রহী ছিলেন না। তারপরও আমরা দেখি ওনার সময়ে ইরান বিশ্বাঙ্গনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে, প্রেসিডেন্ট রাইসির আমলে ইরান আঞ্চলিক পর্যায়ে কূটনৈতিক দিক থেকে অনেক কিছু করেছিল। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা চায়নার মধ্যস্থতায়। তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের সবার সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছিল। যেখানে আগের প্রেসিডেন্ট পশ্চিম তথা পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ককে রিভিলের চেষ্টা করেছেন অনেক বেশি। আর রাইসির ফোকাসটা ছিল আঞ্চলিক পর্যায়ে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে আরও ঐক্যবদ্ধ করা এবং এর মাধ্যমে একটা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বা আঞ্চলিক শক্তি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আমরা দেখেছি গাজা যুদ্ধের ক্ষেত্রেও। সেখানে যারা ইসরায়েলকে প্রতিহত করছে হামাস বা লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ, তাদের অনেক প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক দৃঢ়তা পেয়েছে। এখানে আমরা ইরানের একটা বড় ধরনের সামরিক নেতৃত্ব লক্ষ করছি।

দেশ রূপান্তর : গাজা যুদ্ধের কথা তো আপনি বললেনই। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরায়েল যে মুখোমুখি এবং সামরিক হামলার মতো ঘটনার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে

দেলোয়ার হোসেন : ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক সবসময়ই যেটাকে বলে উত্তেজনাকর। আমরা জানি যে ইরানের খুব গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছিল ইরাকে। এবং ভেরি রিসেন্টলি সিরিয়াতে ইরানি কনস্যুলেটে যে ভয়ংকর আক্রমণ হয়েছিল, যার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু সুদূর কিংবা নিকট অতীতের এ রকম গুপ্তহত্যা টাইপের যে আক্রমণ, সেটা ইরানের অভ্যন্তরে কতটা সফল হওয়া সম্ভব আমি নিশ্চিত নই। যদি কোনো ঘটনা থাকে তবে নিঃসন্দেহে ইরান ঘোষণা দেবে এবং ব্যবস্থাও তারা নেবে তখন সেটা বলা যাবে।

দেশ রূপান্তর : ইসরায়েল এ ঘটনায় বেশ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে যে তারা জড়িত না।

দেলোয়ার হোসেন : হ্যাঁ। আমরা বৈশ্বিকভাবে দেখছি ইসরায়েল জড়িত না থাকার কথা বলছে। তারা শোকও প্রকাশ করেছে। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে আঞ্চলিক এবং মুসলিম দেশগুলো ইরানের পাশে আছে। পশ্চিমারাও শোক প্রকাশ করছে...।

দেশ রূপান্তর : পশ্চিমা বিশ্ব এখন যেভাবে সহমর্মিতা জানাচ্ছে, ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের কথা বাদ দিলেও কূটনীতিক থেকে শুরু করে পরমাণু বিজ্ঞানীসহ বিভিন্ন হত্যাকান্ডে কি সেটা দেখা গেছে?

দেলোয়ার হোসেন : না না। কাসেম সোলাইমানির কথা যদি ধরেন তিনি তো সামরিক কর্মকর্তা আর তাকে তো তারাই হত্যা করেছে এবং সেখানে এভাবে সহমর্মিতা জানানোর সুযোগ নেই। কিন্তু এটা তো ইরানের একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং ইরান একটি প্রভাবশালী রাষ্ট্র, বিশ্বরাজনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে বিশেষ ভূমিকা আছে। আর রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কের জায়গা থেকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার থেকে এবং জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যবস্থার অংশ হিসেবে সভ্য বিশ্বের রাষ্ট্র হিসেবে বাস করলে এ রকম একটা ঘটনায় শোক প্রকাশ করা উচিত। সেজন্যই পশ্চিমা দেশগুলো করছে। তবে আমাদের কাছে মনে হয় এটা অনেকটাই কূটনৈতিক।

দেশ রূপান্তর : অনেকটাই কূটনৈতিক বলতে কি আন্তরিক নয়, এমন?

দেলোয়ার হোসেন : নিঃসন্দেহে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সবার সম্পর্ক একরকম না। আমরা জানি যে, ইউরোপের বেশ কিছু দেশ আছে যারা ইরানের নিরাপত্তা বা ইরানের স্বাধীনতা ও অন্যান্য বিষয়কে তারা ফ্লেক্সিবলি দেখে। আবার অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও তাদের কিছু মিত্র দেশ অন্য রকম। গত রবিবার আমরা অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেখেছি যে আমেরিকার একজন সিনেট মেম্বার রাইসির মৃত্যুকে একটা শুভ ব্যাপার হিসেবে দেখেছেন। এবং উনি ইনিয়ে বিনিয়ে বলেছেন যে, রাইসি একজন খুনি। আমি বলেছি পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তবে মার্কিনিদের কূটনীতি অনেক পরিপক্ব। তারা জানে যে, এই মুহূর্তে এমনিতেই ইসরায়েলের যে কর্মকাণ্ড, গাজা ও রাফায় যা করছে এবং যুদ্ধ ও গণহত্যার যে বিষয়টি, এটি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব সরাসরি কিছু না বললেও তারা অনেকটাই সমালোচনার মধ্যে আছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের মতপার্থক্য আমরা দেখতে পাচ্ছি এবং বিশ্বের অনেক অবস্থান থেকেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরে আসছে সেটাও দেখতে পাচ্ছি। এ রকম একটা সিচুয়েশনে ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে তারা কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার জায়গা থেকে সহমর্মিতা দেখিয়েছে। তাছাড়া এমন পরিস্থিতিতে ইরানে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে সেটা পূরণ করতে কে ক্ষমতায় আসবেন, তিনি আরও কট্টর হবেন নাকি উদার হবেন এসব হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে পশ্চিমা বিশ্বে। কারণ ইরান এবং ইরানের নেতৃত্ব পশ্চিমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের নিহত রাষ্ট্রপতি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক ডায়নামিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক যে ব্যাক থ্রো-গুলো হয়েছে, এ ব্যাক থ্রোর অন্যতম কুশীলব হচ্ছেন নিহত পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

দেশ রূপান্তর : এ ঘটনাটি যদি সত্যিই দুর্ঘটনা হয় তাহলে সার্বিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে আর যদি ঘটনার পেছনে কিছু থাকে তাহলেই বা কী হতে পারে?

দেলোয়ার হোসেন : যদি কোনো কারণে এ ঘটনার সঙ্গে কোনো সহযোগী থেকে থাকে, এটি যদি কোনো আক্রমণ হয়ে থাকে, তাহলে প্রমাণ সামনে আসবে। আর এমন প্রমাণ সামনে এলে সব বিবেচনা পাল্টে যাবে। অনেক বড় বড় ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার পেছনেই রহস্য থেকে যায়। আমরা এখনো জানি না আসলে কী ঘটেছে। তবে এ ঘটনার ফলে ইরানে নতুন নেতৃত্বের আগমন ঘটবে এবং এ অঞ্চলের বিস্ফোরক রাজনীতি ও বর্তমান বাস্তবতার মোড় ঘুরবে। সেখানে দ্রুত স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হলে মঙ্গলজনক হবে। নতুবা বিভিন্ন হঠকারী সিদ্ধান্ত অস্থিরতা তৈরি করবে।

দেশ রূপান্তর : গাজা ইস্যুতে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে?

দেলোয়ার হোসেন : কিছুটা সাময়িক প্রভাব তো পড়তে পারে। নেতিবাচকভাবে। হামাস ও অন্যদের মনোবলে ঘাটতি আসতে পারে। তবে ইরান দ্রুত এ অবস্থা কাটিয়ে উঠবে। তাদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ব্যবস্থায় ৫০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হয়। ফলে এ সময়টুকু হয়তো বা কিছুটা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। তবে ইরান ছাড়াও অন্যান্য দেশ, বা ইরানের অন্য নেতারাও তো আছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেবেন। তবে ইরানকে ভেতরের রাজনীতিতে একটু নজর দিতে হবে। কারণ ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে; কট্টরপন্থি, লিবারেল ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গও আছেন। যদিও রাইসি একটা ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ফলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলে গাজা পরিস্থিতিতে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে আমার মনে হয় না যে এটা মৌলিক কোনো প্রভাব রাখবে। আমরা দেখছি সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যে গাজা ইস্যুতে ঐক্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এটা হামাস ও অন্যদের মানসিক দিক থেকে শক্তিশালীও করতে পারে।

দেশ রূপান্তর : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

দেলোয়ার হোসেন : আপনাকেও ধন্যবাদ।

অনুলিখন : ফজলে রাব্বি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত