শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চবি ভোটকেন্দ্র দখল, ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম 

আপডেট : ২১ মে ২০২৪, ০৭:২৫ পিএম

দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচনের মধ্যে উত্তপ্ত ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভোটকেন্দ্র। নিজেদের পছন্দের নেতার ভোট নিশ্চিত করতে তৎপর ছিল কর্মীরা। ভোটকেন্দ্র দখল করতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় চবি ছাত্রলীগ দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা। ভোটকেন্দ্রের সামনের রাস্তায় চবি ছাত্রলীগের এক কর্মীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এছাড়া ধাওয়া পাল্টায় আহত ৭ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুর ৩টার দিকে ক্যাম্পাসের ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ ভোট কেন্দ্রের সামনের রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস জুড়ে তৎপর হয়ে ওঠে শাখা ছাত্রলীগের সিএফসি ও বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে বিজয় গ্রুপের কর্মীরা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এস এম রাশেদুল আলমের মোটরসাইকেল প্রতীকের পক্ষে ও সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সোহরাব হোসেন চৌধুরী নোমানের ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করেন। ভোটের দিন কেন্দ্র দখল করে নিজেদের পছন্দের নেতার ভোট নিশ্চিত করতে তাদের তৎপরতা ছিল ব্যাপক। দুপুর দুই গ্রুপের কর্মীরা সংঘর্ষে জড়ায়। এই সময় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ ভোটকেন্দ্রের অদূরে অবস্থান নেয়। অনেকেই দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রাস্তায় মহড়া দেয়।

এ সময় বিজয় গ্রুপের এক কর্মীকে কুপিয়ে জখম করে 'সিএফসি' এর কর্মীরা। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার ঘাড়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত করা হয়। আহত হওয়া শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন এন্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী সালাহ উদ্দিন। তাকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে। তাদেরকে চবি মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিজয় গ্রুপের নেতা মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, আমাদের কয়েকজন কেন্দ্রে গিয়ে দেখে বিজয় গ্রুপের একশো থেকে দেড়শ ছেলে এসে কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করছে। এ সময় সালাহ উদ্দিন তাদেরকে বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে সিএফসি গ্রুপের নেতা আহসান হাবিব সোপান বলেন, যে কুপিয়েছে সে নিজ উদ্যোগে কেন্দ্রে গিয়েছিল। আমাদের নেতার কোনো নির্দেশনা নেই। আমরা চাই দোষীকে যেন শাস্তির আওতায় আনা হয়। 

হাটহাজারী থানার পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ছাত্রদের দুটি পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী মামলা করলে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিবো।

চবি প্রক্টর ড. অহিদুল আলম বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রিক একটা বিশৃঙ্খলা থেকে ঘটানোর সূত্রপাত। এতে এক ছাত্র বেশ কিছু শিক্ষার্থীর মাধ্যমে গুরুতর আহত হন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, এটা নির্বাচন কেন্দ্রিক বিষয়। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত