বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজ একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বাকশালি শাসন চালু করতে তারা বহুদূর এগিয়ে গেছেন। এবার তারা সুকৌশলে গণতন্ত্রের লেবাস ছদ্মবেশী আল খেল্লার মতো নির্বাচন করছেন। এমন নির্বাচন করছেন, দেশের ৬৩টি রাজনৈতিক দল বর্জন করেছে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ যাচ্ছে না। কারণ তারা বুঝে গেছে, এই নির্বাচনে ভোট দিয়ে লাভ নাই।’
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে শফিউল আলম প্রধানের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা (সরকার) ব্যবহার করেছেন রাষ্ট্রযন্ত্রকে, ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন সেনাবাহিনীকে, ব্যবহার করেছেন বিচার বিভাগ, প্রশাসনকে। ভয়ের রাজত্ব তৈরি করেছেন।’
কখনো হাল না ছেড়ে বুকের মধ্যে শক্তি, বল ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তরুণেরা কোথায়? দেশ যে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তাদের মধ্যে কোনো অনুভূতি নেই? আলোড়িত করে না? দেশটা তাদের, ভবিষ্যৎ তাদের। আমরা উৎখাত করতে যাব কেন? ভোটের অধিকার চাই, ভোটের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজিত করতে চাই। প্রয়োজনে আরও ত্যাগ স্বীকার করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। কোনো রেডিকেল পার্টি বা রেভল্যুশনারি পার্টি না। নির্বাচনটা যেন সুষ্ঠু, অবাধ হয়, সরকার যেন কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সেই জায়গাটা আমাদের যেতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা না চাইলে কেউ কোনো কিছু দেবে না। আমার ঘর যদি নিজে সামলাতে না পারি, কেউ এসে সামলে দেবে না। নিজেদের শক্তি নিয়ে এদের পরাজিত করতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, আন্দোলনকে তীব্র থেকে তীব্রতর করতে হবে।’
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে আছে। দেশ এখন উন্মুক্ত কারাগার। যারা দেশে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ফেরাতে চায়, তাদের জায়গা হচ্ছে কারাগারে।’
