গাজীপুরের শ্রীপুরে কিশোর অপরাধীদের দুটি দলের (কিশোর গ্যাং) মধ্যে মারামারির জেরে গোলাগুলি হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একটি দলের প্রধান মারা গেছে। গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি নোভা হ্যাচারি এলাকার মাটির মসজিদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফরিদ আহম্মেদ (২২) পার্শবর্তী শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উজিলাব গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে। স্বজনরা জানিয়েছে, নিহত ফরিদ দুই সপ্তাহ আগে বিয়ে করে। এ বছর এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
অন্যদিকে তার ওপর হামলাকারী কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেয় মাটির মসজিদ এলাকার মনসুরের ছেলে ইমরান মিয়া (২৩)। তার দলেও অন্তত ১৫ জন কিশোর সদস্য রয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পারিবারিক আধিপত্য বজায় রাখতেই এ ঘটনা ঘটছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাটির মসজিদ এলাকার ইমরান ও উজিলাব গ্রামের ফরিদ মিলে একটি বড় আকারের কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেয়। এই গ্রুপে অন্তত ২০-২৫ জন কিশোর রয়েছে। তাদের ভাণ্ডারে রয়েছে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রায় সময় অস্ত্রবাজি করে থাকে এ দুটি কিশোর গ্যাং। মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাচন চলাকালে আনসার টেপিরবাড়ি কেন্দ্রের কাছে কোনো একটি বিষয় নিয়ে ইমরান ও ফরিদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জেরে রাতে সহযোগীদের নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে মাটির মসজিদ এলাকায় ইমরানের বাড়িতে হামলা চালায় ফরিদ। এ সময় ইমরানের গ্রুপের সদস্যরাও পাল্টা হামলা চালায়। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। এতে ইমরান গ্রুপের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয় ফরিদ।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাজমুল হুদা জানান, স্বজনরা মৃত অবস্থায় ফরিদকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা জানায় সে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। নিহত ফরিদের শরীরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার মতো দুটি চিহ্ন পাওয়া গেছে।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি আকবর আলি খান বলেন, ‘গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত হয়েছে। আমরা ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। খুব শিগগির প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’ তবে কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
