বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

উপদ্বীপে নতুন রাজনীতি

আপডেট : ২৮ মে ২০২৪, ১২:৪২ এএম

দীর্ঘ চার বছর পর আবার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এক মঞ্চে বসেছেন চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ নেতারা। গতকাল সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে চীনের প্রধানমন্ত্রী ছিয়াং, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল বৈঠকে বসেন। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই বৈঠককে সম্পর্কের নবসূচনা বলে প্রশংসা করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং। এই তিন নেতা কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। তবে তিন দেশের যৌথ এই ঘোষণাকে মারাত্মক রাজনৈতিক উসকানি এবং সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলেও অভিহিত করেছে উত্তরর কোরিয়া।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বে উত্তেজনায় বিঘিœত বাণিজ্য ও নিরাপত্তা আলোচনা নতুন করে শুরু করা নিয়ে বৈঠকে সমঝোতা হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে স্থবির হয়ে থাকা মুক্তবাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়া, বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানোসহ নানা উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তিন দেশ।

রয়টার্স জানাচ্ছে, লি ছিয়াং চীন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সহযোগিতা গভীর করতে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, সার্বিক সহযোগিতা পুনরুদ্ধার করা, একে অপরের প্রধান স্বার্থ ও উদ্বেগকে সম্মান করা, সহযোগিতা বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা নতুন করে শুরু করা।

দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চীন-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া অবাধ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করা। তৃতীয়ত, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করা।

চতুর্থত, চীন-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে মানুষে মানুষে আদান-প্রদান ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বন্ধন দৃঢ় করা। পঞ্চমত, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, বার্ধক্য ও মহামারী মোকাবিলার ক্ষেত্রে বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করা।

দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান-চীনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক চার বছর পর পুনরায় শুরু হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের নেতারা।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং বলেছেন, ‘চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কখনো পরিবর্তন হবে না। সংকটে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে অর্জিত সহযোগিতার স্পৃহা কখনো পরিবর্তন হবে না এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার সুরক্ষায় আমাদের মিশন কখনো পরিবর্তন হবে না।’

তবে মাত্র এক সপ্তাহ আগে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এবং তাদের সঙ্গে চীনের যৌথতাকে ভালোভাবে দেখছে না পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ‘কোরীয় উপদ্বীপের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করা একটি গুরুতর রাজনৈতিক উসকানি এবং সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত