কয়েক মাস আগে দেশের বেশ কিছু কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে বিএনপির ১৩ নেতাকর্মীর মৃত্যুর ঘটনার কারণ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে কারা অধিদপ্তরে দেওয়া চিঠি নিষ্পত্তি করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ-সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানিকালে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এসএম মাসুদ হোসাইন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সেলিম আযাদ।
আইনজীবী কায়সার কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কারাগারে আমাদের দলের ১৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করে একটি রিট আবেদন করেছিলাম। ২৭ ফেব্রুয়ারি ৯ কারা কর্তৃপক্ষকে একটা চিঠি দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘চিঠির বিষয়বস্তু ছিল, কারাগারে কেউ অসুস্থ হলে, মারা গেলে হাসপাতালে নথিভুক্ত থাকে। এ ছাড়া মৃত্যুর কারণ উল্লেখ থাকে। চিঠিতে আমরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও চেয়েছিলাম। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ কোনো সাড়া দেয়নি। বিষয়টি রিট শুনানিকালে আমরা হাইকোর্টের নজরে এনেছিলাম। আদালত শুনানি নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে চিঠির বিষয়টি নিষ্পত্তির এই আদেশ দিয়েছে।’
কারাগারে বিএনপি নেতাকর্মীদের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত ও পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। আবেদনের যুক্তিতে বলা হয়, অতি অল্প সময়ে ১৩ জন রাজনৈতিক বন্দি কারা হেফাজতে মারা গেছেন। এর মধ্যে ডান্ডাবেড়ি পরিহিত অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনাও এসেছে। যখন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তারা সবাই সুস্থ শরীরে ছিলেন। কিন্তু পরে অনেককে রিমান্ডে নেওয়া হয়। যেহেতু কারাগারের হেফাজতে থাকাবস্থায় তারা মারা গেছেন, এসব মৃত্যু আসলেই কীভাবে হয়েছে তা নির্ধারণের দাবি রাখে। তবে, তদন্ত কমিটিতে কারা কর্তৃপক্ষ বা পুলিশের কোনো লোক থাকবে না। আবেদনে মৃত্যুর এসব ঘটনা তদন্তে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে কর্মরত মানবাধিকারকর্মীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের আরজি জানানো হয়।
