‘শান্তিরক্ষীদের প্রশংসা শুনে বুকটা ভরে যায়’

আপডেট : ৩০ মে ২০২৪, ০৬:১১ এএম

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ রোলমডেলে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা যেখানে কাজ করছে সেসব রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। প্রশংসা শুনে গর্বে আমার বুকটা ভরে যায়।’

তিনি সংলাপের মাধ্যমে সব দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসন, চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতার অর্থ মানবজাতির কল্যাণে ব্যয় করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৪’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। খবর বাসস

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় একটি দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য নাম। আমরা সর্বজন স্বীকৃত এবং বিশ্বের বুকে একটি রোলমডেল। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর টেকসই পরিশ্রমী নিবেদিত প্রাণ সদস্যদের মহান আত্মত্যাগ ও অমূল্য অবদান।’

সরকারপ্রধান বলেন, জাতির পিতার পররাষ্ট নীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতার অঙ্গীকার ও আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করে বাংলাদেশ জাতিসংঘের ‘ব্লু হেলমেট’ পরিবারের সদস্য হয়। বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ১৩টি স্থানে ৪৯৩ নারীসহ ৬ হাজার ৯২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।

শেখ হাসিনা ১৬৮ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন যারা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করেছেন এবং ২৬৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শান্তিরক্ষায় অবদান রাখতে গিয়ে আত্মোৎসর্গকারীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও সমবেদনা জানান তিনি। স্বজন হারাবার বেদনা যে কি, তিনি তা জানেন বলেও এ সময় উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ শাস্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ৩৬ বছর উদযাপন করছি। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বৃহৎ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ এবং সবাই অত্যন্ত সুনাম ও গৌরবের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন।’ তিনি এ সময় বিশ্বের নানা প্রান্তে কর্মরত সব বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের শুভেচ্ছা জানান।

১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘে ‘কালচার অব পিস’ (শাস্তির সংস্কৃতি) প্রস্তাব উত্থাপন করে এবং ১৯৯৯ সালে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, সেই থেকে প্রতি বছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘ফ্ল্যাগশিপ রেজল্যুশন’ এই ‘কালচার অব পিস’ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়ে আসছে। পরে জাতিসংঘ ২০০০ সালকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার অব কালচার অব পিস’ হিসেবে ঘোষণা করে। যার মাধ্যমে শান্তির সংস্কৃতি প্রস্তাবের ২৫তম বর্ষ উদযাপিত হতে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নে কালচার অব পিস প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য বলে আমার বিশ্বাস।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুয়েন লুইস।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আহত তিনজনের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। তিনি ইউএন পিস কিপার্স জার্নালের (দশম ভলিউম) মোড়কও উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগকারী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের কৃতিত্বের ওপর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

জাতির পিতা নিজেকে বিশ্বের শোষিত-বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘জাতির পিতা বলতেন, বিশ্ব আজ দুভাগে বিভক্ত শোষক ও শোষিত, আমি শোষিতের পক্ষে।’ তাই সব সময় তিনি শোষিত মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধ, সাম্য-মৈত্রী, গণতন্ত্র রক্ষা এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বিশ্ব শান্তি পরিষদ’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৩ সালের ২৩ মে ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদকে ভূষিত করে। জাতির পিতা সেই পদক উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী বীর শহীদ এবং সেনানীদের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, যুদ্ধ আজ বিশ্ব শান্তি বিঘিœত করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজার ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু। সেখানে গণহত্যা চলছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা ইত্যাদি মানবজাতির জন্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না এই সংঘাত বা যুদ্ধ মানব জাতির জন্য কী কল্যাণ বয়ে আনছে। অস্ত্র প্রতিযোগিতা প্রতিনিয়ত যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ততই মানুষের জীবন আরও বেশি দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নারী-শিশুরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। যুবকরা অকাতরে জীবন দিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব কিছু সমাধান করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে রয়েছে। কোটি কোটি মানুষ দু’বেলা খাবার পায় না। রোগের চিকিৎসা পায় না। শিশুরা শিক্ষা পায় না। তারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। যারা অস্ত্র তৈরি এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতায় এত অর্থ ব্যয় করছে তাদের কাছে আমার আহ্বান আমরা শান্তির কথা বলি কিন্তু সংঘাতে লিপ্ত হই কেন?

সরকারপ্রধান বলেন ‘এই যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, এই অর্থ যদি ক্ষুধার্ত মানুষের আহারের ব্যবস্থা, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থায় ব্যয় হতো তাহলে এই পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতো। মানুষের জীবনমান উন্নত হতো। মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচতে পারত। কিন্তু এই সংঘাত প্রতিনিয়ত মানুষকে আরও কষ্টের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কাজেই আমি সবসময় যেখানেই যাই এই একটি আহ্বানই জানাই সংঘাত নয়, যদি কোনো সমস্যা থাকে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার। সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কাজ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেই সঙ্গে এই অস্ত্র তৈরি আর প্রতিযোগিতার অর্থ যেসব দেশ এখনো জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে, সেই জলবায়ুর অভিঘাত থেকে মানবজাতিকে রক্ষার জন্য সেই তহবিলে সেই অর্থ দিতে পারেন। তাছাড়া ক্ষুধার্ত ও শিক্ষাবঞ্চিত যেসব শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারেন। সেই আহ্বান আজকে আমি সবাইকে জানিয়ে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, নারীর অধিকার এবং লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতে তার সরকারের পদক্ষেপ ‘উইমেন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্ডা’ তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যতম বৃহৎ নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবেও পরিচিতি লাভ করছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৩ হাজার ৩৮ নারী শান্তিরক্ষী সফলতার সঙ্গে মিশন সম্পন্ন করেছেন। এজন্য আরও অধিক পরিমাণে নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণেরও দাবি উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস’-এর আহবানে একাত্মতা ঘোষণা করে দারিদ্রের অবসান, পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষা এবং জনগণের শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি এই মহতী উদ্যোগে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য বাংলাদেশে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাকে আন্তরিক ধন্যবাদও জানান।

সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের কমিউনিটি ক্লিনিকের অনুকরণে সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকা রিপাবলিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সহায়তায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সে দেশের প্রেসিডেন্টের নামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর জন্যও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে জাতির পিতার প্রতি এই সম্মাননা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবের অধ্যায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব শান্তি নিশ্চিত করা এখন অতীতের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির সাম্প্রতিক প্রসার ও অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নতুন নতুন হুমকি। ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে শান্তিরক্ষীদের বহুমাত্রিক জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তাই শান্তিরক্ষা মিশনগুলো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সমৃদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা এখন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট সমূহে অত্যাধুনিক ‘মাইন রেসিস্ট্যান্ট অ্যামবুশ প্রটেকটেড’ যানবাহন এবং শান্তিরক্ষীদের যোগাযোগের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করেছি। আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং প্রশিক্ষণ একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যাতে বিশ্বে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং এবং বিপজ্জনক অঞ্চলগুলোতে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে সেজন্য তাদের সময়োপযোগী প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ সময় তিনি শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণে ’৯৬ সালে প্রথমবার সরকারে এসেই ‘বিপসট’ (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং) প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করেন, যা এখন আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত/হাইকমিশনার, তিন বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিব, বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সকাল সোয়া ৬টায় ঢাকার তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর মসজিদ এলাকায় এবং অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ‘শান্তিরক্ষী দৌড়-২০২৪’-এর মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

শান্তিরক্ষী দৌড়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব), সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের শান্তিরক্ষীরা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তঃবাহিনী সংস্থাগুলোর মনোনীত প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত