ফেনী সদর, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১৬ প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী সাত প্রার্থী ছাড়া পরাজিত নয় প্রার্থীর সবাই জামানত হারিয়েছেন। নিয়মানুযায়ী নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ না পাওয়ায় তারা জামানত হারাচ্ছেন।
ফেনী সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী মনজুর আলম, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আরজুমান আক্তার, সোনাগাজী উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী মুজিবুল হক, মহিউদ্দিন, নুর আলম মিস্টার, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হায়দার আলী, দাগনভূঞা উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজন ভৌমিক, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ ইউছুপ আলী প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ না পাওয়ায় জামানত খোয়াতে যাচ্ছেন।
গত বুধবার ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্বাচনে ফেনী সদর উপজেলায় ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৪ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ২৪ হাজার ৩৪৩ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এ হিসাবে জামানত ফিরে পেতে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অন্তত ৩৩ হাজার ৬৫১ ভোটের বেশি পেতে হতো। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মনজুর আলম পেয়েছেন ৭ হাজার ৩০৯ ভোট। এতে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া উড়োজাহাজ প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৯৫ ভোট। তিনিও জামানত হারাচ্ছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৬ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে জামানত খোয়াচ্ছেন প্রজাপতি প্রতীকের প্রার্থী আরজুমান আক্তার।
সোনাগাজীতে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮৮ ভোটারের মধ্যে ৮৯ হাজার ২৩৭ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীকে অন্তত ১৩ হাজার ৩৮৫ ভোটের বেশি পেতে হতো। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকের মুজিবুল হক ৭০৯ ভোট, আনারস প্রতীকের মহিউদ্দিন ৪২০ ভোট এবং ঘোড়া প্রতীকের নুর আলম মিস্টার ৩৫৬ ভোট পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামানত খোয়াচ্ছেন উড়োজাহাজ প্রতীকের প্রার্থী হায়দার আলী।
দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২ লাখ ৩৯ হাজার ১২২ ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ২২ হাজার ১৩৬ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এ হিসাবে জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীকে অন্তত ১৮ হাজার ৩২০ ভোটের বেশি পেতে হতো। কিন্তু পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় চেয়ারম্যান পদে চিংড়ি মাছ প্রতীকের প্রার্থী বিজন ভৌমিক ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে উড়োজাহাজ প্রতীকের মোহাম্মদ ইউছুপ আলী জামানত হারাচ্ছেন।
অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (কুমিল্লা অঞ্চল) ও ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদের জন্য একজন প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের অনুকূলে ১ লাখ টাকা জমা দিতে হয়েছে। আর ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭৫ হাজার টাকা। বিধি অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ ভোট না পাওয়া প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
