ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে উপকূলীয় এলাকায় বাঁধসংলগ্ন নিচু এলাকা উপচে লোকালয়ে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করেছে। এই মুহূর্তে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিঠাপানির জলাশয় থেকে দ্রুত লবণাক্ত পানি অপসারণ করতে হবে। না হলে এটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় কমিটির সদস্য গওহর নঈম ওয়ারা এই অভিমত দিয়েছেন।
গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাপা আয়োজিত ‘ঘূর্ণিঝড় রিমাল-পরবর্তী খাদ্যনিরাপত্তা : আশু করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিমত দেন।
গওহর নঈম বলেন, রিমেল কোনো মারাত্মক সাইক্লোন (ঘূর্ণিঝড়) ছিল না। এটি ছিল মধ্যম মানের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়। তারপরও এর এত দীর্ঘ স্থায়িত্বকাল দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। কারণ এটি উপকূলে আঘাত হানার পর থেকে প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করেছে। দীর্ঘ সময় ঝড়ের ফলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় অনেকক্ষণ অবস্থান করলে দুটি জোয়ার ধরে ফেলবে, সেটা না বুঝতে পারা এবং সেই অনুযায়ী সতর্কবার্তা দিতে না পারাটা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্মগত ত্রুটি বলে উল্লেখ করেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, এবারের ঘূর্ণিঝড়ে বেড়িবাঁধের ক্ষতি এক দীর্ঘমেয়দি ক্ষতের সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। সামনের আমন মৌসুম ধরতে হলে মাঠ ও জলাশয় থেকে দ্রুত নোনাজল বের করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ঘূর্ণিঝড় চলে যাওয়ার পর সরকার সেই ক্ষয়ক্ষতির ঠিকমতো কোনো হিসাবও রাখে না। উপকূলীয় জেলাগুলোয় দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত সাইলো ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানান তিনি।
ঘূর্ণিঝড় শুরুর আগে উপকূলীয় জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে বলে ঢালাও প্রচার করা হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক কামরুজ্জামান বলেন, এখন শোনা যাচ্ছে জেলায় বরাদ্দ আছে মাত্র ৬ লাখ টাকা। এটি জাতির সঙ্গে প্রহসনের শামিল।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার। বক্তব্য দেন দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ও বাপার জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম, বাপার সহসভাপতি শহিদুল হক খান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রসুল।
