ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর আগে দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে। ২০০৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ আর ২০১০ সালে টি-টোয়েন্টি আসর। দুটোতেই খেলেছেন শহিদ আফ্রিদি। ১৪ বছর আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজে হচ্ছে বিশ্বকাপ, এবার অবশ্য সহ আয়োজকরা তারা। ক্যারিবীয় দ্বীপপঞ্জে খেলা বলেই নিজের সময়ের কথা মনে পড়ছে শহিদ আফ্রিদির।
প্রথম দুই বিশ্বকাপের রানার্স আপ ও চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান দলের সদস্য আফ্রিদি ২০১০ আসরে পাকিস্তানকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে আইসিসিতে লেখা কলামে ওই আসরের স্মৃতিচারণ করে আফ্রিদি বলেছেন, 'উইন্ডিজ নাম শুনলেই আমার মনে একটা রোমাঞ্চ কাজ করে। আমি খুশি যে বিশ্বকাপ সেখানে আবার ফিরেছে। ২০১০ সালে আমার নেতৃত্বেই উইন্ডিজে বিশ্বকাপ খেলেছিল পাকিস্তান। সেবার আমরা সেমিফাইনালে খেলেছিলাম। ভালো খারাপ মিলিয়ে ওই আসরের দারুণ কিছু স্মৃতি আছে আমার।'
এবার বিশ্বকাপ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রেও। দেশটিতে ক্রিকেট নতুন খেলা। সেখানে ফুটবল খেলার হয় সকার নামে। আবার 'ফুটবল' বলে নিজম্ব ঘরানার একটা খেলাও আছে। তো ফুটবলের দেশে পেলে-ম্যারাডোনার খেলাটিও জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে। সেখানে ক্রিকেট জনপ্রিয় হবে কি করে?
শহিদ আফ্রিদি একটা উপায় বাতলে দিয়েছেন। ফুটবলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা যেমন সুপার ক্লাসিকো, রিয়াল-বার্সা ম্যাচ এল ক্লাসিকো বা ইংল্যান্ডে ম্যানচেস্টার ডার্বি, বা ইতালিতে মিলান ডার্বি খেলাগুলো চরম উত্তেজনার। তেমনি ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবচেয়ে সেরা দ্বৈরথ। আমেরিকান ফুটবলেও এমন দ্বৈরথ আছে। তারা ওই লড়াইয়ের নাম দিয়েছে 'সুপার বোল'। সেই ম্যাচ হয় ডালাস কাউবয়েজ আর ফিলাডেলফিয়া ঈগলস ফুটবল দলের মধ্যে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটিকে আফ্রিদি 'সুপার বোল' এর মতো করে দেখার আহবান জানিয়েছেন আমেরিকানদের কাছে। অনুরোধও করেছেন মাঠে এসে ম্যাচ দেখার , 'আমি আমেরিকায় ক্রিকেট খেলেছি। সেখানে এশিয়ানদের কাছে ক্রিকেটের প্রতিচরম ভালোবাসা আছে এবং এটাই স্বাভাবিক। স্থানীয়রাও ক্রিকেট খেলা সম্পর্কে জানতে চায়। আমি তাদের বলব- পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ হলো আমাদের সুপার বোল। মাঠে আসলে আবহ দেখলেই তারা বুঝতে পারবে।'
৯ জুন নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠেয় আরেকটি পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ নিয়ে আফ্রিদির মন্তব্য, 'ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ একটা উৎসব। পাশাপাশি উৎসবে চাপ সামলানোর ব্যাপারও। এই ম্যাচে দুদলের সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে তৈরি থাকে। একটা দল হয়ে কাজ করে। টিমওয়ার্ক হচ্ছে সেই কাজ, যা ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়। আমরা যখন খেলতাম, তখনও ব্যাপারটা একই ছিল। দর্শকের ভালোবাসা ছিল, প্রত্যাশা ছিল।’
এবারের বিশ্বকাপে স্পষ্ট কোন ফেভারিট নেই আফ্রিদির কাছে। তবে পাকিস্তানকে রোমাঞ্চকর দল হিসেবে এগিয়ে রাখছেন সাবেক অলরাউন্ডার।
আইসিসি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে 'সৎমায়ের মতো আচরণ' করছে
ভারতকে সুবিধা দিয়েই বিশ্বকাপ সূচি, মানছেন আয়োজকরা