প্রতিদিন কয়েক শ ট্রাক মাটি বেচেন ছাত্রলীগ নেতা

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪, ০৯:৫১ পিএম

মানিকগঞ্জের ঘিওরের সরকারি জলমহাল নিলুয়া বিল ইজারা নিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মাটি কেটে সেগুলো বিক্রি করছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনি। ছাত্রলীগ নেতা রনির দাবি, ইউএনওর ‘নির্দেশে’ জলমহাল সংস্কার করা হচ্ছে। সাড়ে ৫ লাখ টাকা দিয়ে জলমহালটি ইজারা নিয়ে মাটি বিক্রির জন্য ট্রাক চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করতেই তিনি খরচ করেছেন ১০ লাখ টাকা।

জানা যায়, গত মাসে ঘিওর উপজেলা প্রশাসনের কাছে থেকে তিন বছরের জন্য উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের নিলুয়া বিল জলমহালটি ইজারা নেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনি। কিন্তু সংস্কারের নামে সরকারি ওই জলমহাল থেকে এক্সকাভেটর (ভেকু) যন্ত্র দিয়ে প্রতিদিন কয়েক শ ট্রাক মাটি কেটে বিক্রি করছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, ওই জলমহালের পাশেই স্থায়ীভাবে একটি ছাপরা ঘর স্থাপন করেছেন ইজারাদার। ওই ঘর থেকে মাটির গাড়ির স্লিপ দিচ্ছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শুভ আহমেদ টুকুন। জলমহাল থেকে এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। আর ওই মাটি আরিচা-দৌলতপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কাজে ড্রাম্প ট্রাকে সরবরাহ করা হচ্ছে। জলমহালের দুপাশে হালকা উঁচু করে পার বাধার কাজ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ চাষের জন্য জলমহাল ইজারা নিয়ে ছাত্রলীগের নেতারা মাটির ব্যবসা করছে। জলমহাল থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে মহাসড়কের ঠিকাদারের কাছে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শুভ আহমেদ টুকুন বলেন, ‘ছাত্রলীগের সভাপতি রনি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে জলমহাল ইজারা নিয়েছে। জলমহাল সংস্কারের অনুমতি আছে ইউএনওর।’ সংস্কারের অনুমতির কাগজ দেখতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সভাপতির কাছে কাগজ আছে।’তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে মাটির ট্রাক চলাচলের রাস্তা বানাতেই।’

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও জলমহালের ইজারাদার মেহেদী হাসান রনি এ ব্যাপারে বলেন, ‘সাড়ে ৫ লাখ টাকায় নিলুয়া বিল জলমহালটি মাছ চাষের জন্য ইজারা নিয়েছি। কিন্তু বিলে পানি না থাকায় চারিদিকে পার বাধার জন্য এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এর কিছু মাটি আরিচা-দৌলতপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ঠিকাদার সড়কটির কাজে লাগাচ্ছে।’

পয়লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘শুনেছি নিলুয়া বিল মাছ চাষের জন্য উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রনি ইজারা নিয়েছে। সেই বিল থেকে মাটিও কাটা হচ্ছে।’

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নিলুয়া জলমহাল তিন বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। মাছ চাষের উপযোগী করতে ইজারাদার সংস্কার করতে পারবে। বালু-মাটি আইনে ইজারায় এই অনুমতি আছে।’

মাটি বিক্রির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মাটি রাখার জায়গা না থাকলে ইজারাদার এগুলো কী করবে? মাটি তো সরাতে হবে!’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত