ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই লোকাল মিডিয়া অফিসারের ঘোষণা- অস্ট্রেলিয়া দলের কোচ ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংবাদ সম্মেলন কক্ষে যাবেন। কারণ তাদের দেশে ফেরার বিমান ধরার তাড়া। তড়িঘড়ি শুরু হওয়া সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার কোচ গ্রাহাম আরনল্ড বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার স্যাঁতস্যাঁতে মাঠ নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন। তার কাছে এই মাঠ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। র্যাংকিংয়ে ১৬০ ধাপ পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারাতে না পারার অযুহাত হিসেবে সকারুদের কোচ মাঠকে সামনে আনতে চেয়েছেন ঠিক, তাই বলে স্বাগতিক বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও কোচ হাভিয়ের কাবরেরার কৌশলকে খাটো করেননি। বরং প্রশংসাই ঝড়েছে অভিজ্ঞ এই কোচের কথা থেকে। অন্যদিকে মেলবোনের দুঃসহ স্মৃতি ভোলানোর কাজটা এই ম্যাচে করা গেছে বলে সন্তুষ্ট বাংলাদেশ কোচ কাবরেরা। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্যও এই হার একটা বড় শিক্ষা। অনুপ্রেরণাও। যা সঙ্গী করে ১১ জুন লেবাননকে হারানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন তারা।
ম্যাচটা অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ২-০ ব্যবধানে। প্রথম গোলটা বাংলাদেশ ডিফেন্ডার মেহেদী হাসানের উপহার দেওয়া। দ্বিতীয়টি করেছেন কুসিনি ইয়েঙ্গি। আরও গোল না হওয়ায় হতাশ অস্ট্রেলিয়া কোচ বলেন, 'আমরা সম্ভবত ৬-৭টা সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। এখানে চোট শঙ্কা নিয়ে খেলতে হয়েছে ছেলেদের। মাঠের অবস্থা মেনে নেওয়ার মতো নয়। এখানে চোট পাওয়া শঙ্কা প্রবল। ক্র্যাম্প করতে পারে। মাঠের অবস্থা মোটেই ভালো নয়।' এরপর অবশ্য বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিয়েছেন আরনল্ড, 'পুরো কৃতিত্ব আমরা বাংলাদেশকে দিতে চাই। তারা এ ম্যাচের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে। তারা চেষ্টা করেছে। আমি মনে করি তাদের খুবই ভালো একজন কোচ আছে, যিনি দারুণ কাজ করেছেন। এখানে আমরা আরও গোল পেতে পারতাম। তবে এ মাঠেই বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের বিপক্ষে খেলেছিল। শেষ দিকে গোল খেয়ে হেরেছিল। আমরাও জানতাম এই ম্যাচটা কঠিন হবে।'
কাবরেরার অবশ্য মাঠ নিয়ে কোন আপত্তি নেই। তার চোখে এই মাঠ খেলার জন্য যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য। তিনি মূলত কৃতিত্ব দিতে চান শীষ্যদের। কঠোর পরিশ্রম করে মেলবোর্নের লজ্জা ভুলিয়েছেন খেলোয়াড়রা, 'আমি সবসময়ই বলি এরকম ম্যাচে ফলাফলটা মূখ্য নয়। লক্ষ্য ছিল নিজেদের উন্নতি করা। আজকের এই পারফরম্যান্সটা আমরা মেলবোর্নে সেদিন করতে পারিনি। ফলাফলকে একপাশে রেখে আমি বলবো- আমাদের লক্ষ্যপূরণ করেছি। আমাদের রক্ষণভাগ অনেক ভালো খেলেছে পুরো ম্যাচে। শীর্ষ পর্যায়ের একটি দলের বিপক্ষে বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের মার্ক করা থেকে, ডিফেন্সলাইন ঠিক রেখে খেলা, সেট-পিছগুলো রুখে দেওয়ার মতো কাজগুলো দারুণভাবে করেছে তারা। প্রথমার্ধে আমরা আক্রমণে এক-আধবার গেলেও মনে হয়েছে মানসিকভাবে আমরা একটু পিছিয়ে ছিলাম। আর দ্বিতীয়ার্ধে আমরা পুরোপুরি রক্ষণাত্মক হয়ে যাই কারণ প্রতিপক্ষ শারীরিক দিক দিয়েও অনেক শক্তিশালী।'
রক্ষণকে দিতে হয়েছে সবচেয়ে বড় পরীক্ষায়। লেটার মার্ক না হলেও সেই পরীক্ষা উতরে যাওয়াকে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে দেখছেন রাইটব্যাক পজিশনে খেলা সাদ উদ্দিন, 'দল ভালো পারফর্ম করেছে। গোলগুলো দুর্ভাগ্যজনক। একটা ডিফ্লেকটেড হয়েছে। আরকেটা পুশ করেছে পেছন থেকে (মেহেদী ছিল)। রেফারি ফাউল দেয়নি। তারপরও আমরা দল হিসেবে ভালো খেলেছি। দুর্ভাগ্যের কারণে হেরেছি। এই ফলাফলে অবশ্যই খুশি। ওরা গোলের জন্য লড়াই করেছে। আমরাও গোলের সুযোগ তৈরী করেছি। আজ আমাদের ডিফেন্ডিং বেশ ভালো ছিল। লেবাননের বিপক্ষে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে খেলতে হবে এবং অবশ্য লক্ষ্য থাকবে জয়।' ১৬০ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে গোলের বেশি সুযোগ পাওয়ার আশা করাই ভুল। তারপরও শেখ মোরসালিনের আশা ছিল গোল করার। সেটা করতে না পারায় খানিকটা কষ্ট আছে। তবে সামগ্রিকভাবে খুশি তরুণ ফরোয়ার্ড, 'আমরা খুব খুশি। খুব ভালো ডিফেন্ডিং করেছি। সুযোগও তৈরী করেছিলাম। গোল হলে হয়তো ভালো হতো। কোচ যেভাবে পরিকল্পনা করেছিল, সেভাবে করতে পেরেছি। আজ যেভাবে লড়াই করেছি, তাতে বিশ্বাস তৈরী হয়েছে। লেবাননের বিপক্ষে যে করেই হোক পয়েন্ট নিতে হবে।'
লেবাননের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে আজ সন্ধ্যায় দোহার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল।
