শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পিডিবি প্রকৌশলী আনোয়ারের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ০২:২৭ এএম

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) টাঙ্গাইল অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। কমিশনের সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন।

জানা গেছে, প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নামে দুদক। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরই চলতি বছরের ১৩ মার্চ পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধান কর্মকর্তা মানসী বিশ্বাস অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তথ্য চেয়ে গত ৯ মে ব্যাংক, বীমা, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ, ডাক বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিআরটিএ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপিডিসি ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্র্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠান। চিঠিতে আনোয়ারুল ইসলাম, তার স্ত্রী রেহেনা খাতুন ও দুই সন্তানের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ক্রয়-বিক্রয়, রেজিস্ট্রিসহ যাবতীয় তথ্য ২৯ মের মধ্যে দুদকে পাঠাতে বলা হয়। তবে ওই নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত কোনো নথিপত্র দুদকে জমা হয়নি।

দুদকে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়, প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার চৈথট্ট গ্রামে। তিনি টাঙ্গাইলের ইব্ববাড়ি বিবি গার্লস স্কুল ও কলেজ রোডের বাসায় থাকেন। তার পরিবার রাজধানী ঢাকার আফতাবনগরের ২ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের ২৯ বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে থাকে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আনোয়ারুল ইসলাম পিডিবি-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী। তার অধীন টাঙ্গাইলের কালীহাতি উপজেলার কয়েকটি গ্রামের ২ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের মিটার রিডিং দুই থেকে তিন গুণ বাড়িয়ে বেশি বিল নেওয়া হয়। এতে মাসে লাখ লাখ টাকা বেশি নেওয়া হয়। এ ছাড়া সখীপুর উপজেলার যুগীরকোপা গ্রামের তিন শতাধিক গ্রাহকের মিটার রিডিং বাড়িয়ে বেশি বিল করা হয়। দীর্ঘদিন এই অনিয়ম চলতে থাকায় এর প্রতিবাদে স্থানীয়রা একাধিকবার মিছিল-মিটিং ও মানববন্ধন করে। কিন্তু পিডিবির পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মিটারের রিডিং বাড়িয়ে বেশি বিল করে, তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ পেয়ে থাকেন প্রকৌশলী আনোয়ারসহ অন্যারা। এ ছাড়া সখীপুর এলাকার বিভিন্ন গ্রামে বাঁশের খুঁটি দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টানা হয়েছে। পিডিবির কর্মকর্তাদের ঘুষ না দিলে বিদ্যুতের খুঁটি দেওয়া হয় না এমন অভিযোগও রয়েছে। এসব অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন। সেই অর্থ ব্যয় করে তিনি ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ফ্ল্যাট-প্লট ও গাড়ি কিনেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত