মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ আ.লীগ উপদেষ্টাদের

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ০৩:০৬ এএম

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের কষ্টের বিষয়টি তুলে ধরেছেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদের নেতারা। মূল্যস্ফীতি কমাতে সরকারকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গতকাল শুক্রবার রাতে গণভবনে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ পরামর্শ এসেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা।

শুরুতে দলীয়প্রধান সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন। শেখ হাসিনা প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের ওপর উপদেষ্টাদের কাছ থেকে পরামর্শ চান।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদের যেসব নেতা বক্তৃতা করেছেন, তাদের প্রায় সবার বক্তব্যে মূল্যস্ফীতির কথা এসেছে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে মূল্যস্ফীতিই বেশি। এর অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে গমের মূল্য বৃদ্ধি। এটা হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে। তবে ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে জানিয়ে খাদ্যের ওপর চাপ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সূত্র জানায়, একজন উপদেষ্টা মূল্যস্ফীতির উৎসের নানা দিক তুলে ধরেন। আরেকজন উপদেষ্টা বলেন, সমাজে তিনটি পক্ষ। একটি হচ্ছে বাজারের সরবরাহকারী। তারাই মূল্যস্ফীতির মূল সুবিধাভোগী। ভোক্তাদের প্রায় সবাইকে কমবেশি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এর মধ্যে একশ্রেণি টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারছে। বড়লোকদের সমস্যা নেই। বাকিরা খুবই কষ্টে আছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের চাহিদা মেনে কৃষিতে ভর্তুকি কমানোর পথে না হাঁটায় সরকারকে উপদেষ্টাদের অনেকেই ধন্যবাদ জানান।

একজন উপদেষ্টা দুর্নীতি বিস্তারের বিষয়ে বক্তব্য দেন বলে সূত্র জানায়। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র বলছে, ওই উপদেষ্টা বলেছেন, দুর্নীতি ও চুরি থামানো দরকার। আন্তর্জাতিক কারণে সমস্যা হচ্ছে ঠিক আছে। কিন্তু দুর্নীতি ও চুরির সঙ্গে তো কোনো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত দেন, মাঠপর্যায়ে আমলাদের কাছে তার পুরো প্রতিফলন হয় না। ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত পার্থক্য দেখা যায়।

সূত্র জানায়, একজন উপদেষ্টা শিক্ষায় বরাদ্দ প্রসঙ্গে বলেন, এ টাকা যদি শুধু বেতন-ভাতা ও ভবন নির্মাণের পেছনে খরচ করা হয় তাহলে খুব একটা কাজে দেবে না। সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টিও তোলেন কেউ কেউ। উপদেষ্টাদের মধ্যে অনেকে ব্যাংক থেকে সরকারকে বেশি বেশি ঋণ না নেওয়ার পরামর্শ দেন। এটি কর্মসংস্থানে বাধা সৃষ্টি করবে বলে মত দেন তারা।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত