শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ব্রেন টিউমারের যত কারণ

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ০১:২৮ এএম

৮ জুন বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস। ব্রেন টিউমার সম্পর্কে সচেতনতা ও তথ্য ছড়িয়ে দিতে জার্মান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশন ২০০০ সাল থেকে দিনটি পালন করে আসছে।  এবারের বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘ব্রেন হেলথ অ্যান্ড প্রিভেনশন’। বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষের ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে

          অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী

            ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল

মস্তিষ্কের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্রেনে টিউমার বলে। টিউমার ক্ষতিকর (বিনাইন) নাও হতে পারে বা ক্যানসার প্রবণ (ম্যালিগন্যান্ট) হতে পারে। মস্তিষ্কের  ভেতরে যে ব্রেন টিউমার হয় তাকে প্রাইমারি ব্রেন টিউমার বলে। শরীরের অন্যত্র যদি এমন টিউমার হয়, যার মূলে আছে ক্যানসার তা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে গেলে তখন তাকে সেকেন্ডারি ব্রেন টিউমার বলা হয়। ব্রেন টিউমারের চিহ্ন এবং উপসর্গের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে যেমন- টিউমারের আয়তন, টিউমার আকারে বড় হয়ে ওঠার হার এবং কোন এলাকায় টিউমারটি হয়েছে তার অবস্থান। সাধারণ উপসর্গ হলো মাথাধরা, মাঝেমাঝেই অসহ্য মাথা যন্ত্রণা, কথা বলার সমস্যা ও ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়। ব্রেন টিউমারের চিকিৎসানির্ভর করে কোন ধরনের টিউমার এবং তার আকার ও অবস্থানের ওপর।

বুঝবেন যেভাবে : ব্রেন টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণ মাথাব্যথা ও চোখে ঝাপসা দেখা। তবে মাথাব্যথা মানেই ব্রেন টিউমার তা নয়। ব্রেন টিউমারের মাথাব্যথা সাধারণত খুব ভোরে শুরু হয়। সঙ্গে খিঁচুনি হতে পারে। খিঁচুনি সাধারণত হাতে বা পায়ে বা অন্য কোনো স্থান থেকে শুরু হয়ে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই মাথাব্যথা কিছুতেই যেতে চায় না। মস্তিষ্কের ভেতর পিটুইটারি গ্ল্যান্ডে টিউমার হলে রোগীর দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। রোগী সামনের অংশটুকু ভালো দেখতে পেলেও দুপাশে দেখতে পান না এবং একপর্যায়ে অন্ধ হয়ে যান। ব্রেনের সামনের অংশে টিউমার হলে রোগীর স্মৃতিশক্তি কমে যায়। তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করেন। দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। মটর এরিয়ায় টিউমার হলে যেদিকে টিউমার তার উল্টো দিকে প্যারালাইসিস হয়ে থাকে। মস্তিষ্কের খুলির নিচের প্রকোষ্ঠে টিউমার হলে রোগী হাঁটতে গেলে পড়ে যান বা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। কানে শোনেন না। কথা স্পষ্ট করে বলতে পারেন না। টিউমার বড় হয়ে গেলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

চিকিৎসা  : ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, যেমন- টিউমারের অবস্থান, আকার, সার্বিকভাবে রোগীর অবস্থা এবং তার পছন্দের চিকিৎসা। যদি দেখা যায় যে, ব্রেন টিউমারটি এমন জায়গায় অবস্থিত যেখানে অস্ত্রোপচার করা সহজ, তাহলে চিকিৎসক টিউমারটি যতটা সম্ভব বাদ দিয়ে দেবেন। অস্ত্রোপচার বা সার্জারির মাধ্যমে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্রেন টিউমার সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে তা নির্ভর করে টিউমারের ধরন এবং চিকিৎসকের দক্ষতার ওপর।  টিউমার কোষ বিনষ্ট করতে রেডিয়েশন থেরাপিতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আলোক রশ্মি যেমন- এক্স-রে বা প্রোটোন ব্যবহার করা হয়। টিউমারগুলো যখন মস্তিষ্কের সংবেদনশীল এলাকার কাছে থাকে তখন প্রোটোন থেরাপি, যা বিকিরণের নতুন সংস্করণ, বিকিরণের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার বিরূপ প্রভাব কমাতে পারে। রোগীর শরীরে কী ধরনের ও কত ডোজে বিকিরণ দেওয়া হলো, তার ওপর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নির্ভর করে। রেডিওসার্জারি পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র এলাকায় টিউমার কোষ বিনষ্ট করতে একাধিক বিকিরণ আলোকরশ্মি ব্যবহার করা হয়। ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেডিওসার্জারিতে অন্যতম প্রযুক্তি হলো গামা নাইফ বা লিনিয়র অ্যাক্সিলারেটর। ব্রেন টিউমারের ধরন ও অবস্থা বুঝে চিকিৎসায় কেমোথেরাপি দেয়া হয়। ব্রেন টিউমার নিরাময়ে কেমোথেরাপিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় টেমোজোলোমাইড, যা বড়ি বা পিল হিসাবে দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ড্রাগ থেরাপি ক্যানসার কোষগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট অস্বাভাকিতার দিকে লক্ষ্য রেখে চিকিৎসা করা হয়। এই থেরাপিতে যে ওষুধ ব্যবহার হয় তা ক্যানসার কোষগুলোকে বিনষ্ট করে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত