শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চন্দনাইশ

ব্যস্ততা বেড়েছে কামারপাড়ায়

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ০৫:০২ পিএম

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ-উল-আজহা। আর মাত্র কয়েকদিন পরই কোরবানির ঈদ। এই ঈদের অন্যতম কাজ হচ্ছে পশু জবাই করা। ঈদ-উল আজহাকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চন্দনাইশ উপজেলার কামার শিল্পের কারিগররা। এখানে লোহা পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে দা-বটি ও চাপাতি। কামার পাড়ায় এখন কারিগরদের যেন দম ফেলারও সময় নেই। খাওয়া-দাওয়া ভুলে কাজ করছেন তারা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কাজ। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কয়েকগুণ ব্যস্ততা বেড়ে যায় তাদের।

কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার দা, ছুরি, বটি, চাপাতি, ধামা-দা তৈরিতে ও পুরনো দা, ছুরিতে নতুন করে শান দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন কামার শিল্পীরা। কোরবানির ঈদ এসে পড়ায় পুরোদিন ব্যস্ততার মাঝেও গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে কামার শিল্পীদের। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানিতে নতুন দা, ছুরি, চাপাতি, বটি, চাকু তৈরির পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি পরিবারের পুরনো দা, ছুরি, বটি, চাপাতি, চাকুতে শান দিতে ভিড় করছে কামার শিল্পীদের কাছে। আবার কেউ কেউ এসব যন্ত্রপাতি কিনতেও ভিড় করছে। এ সুযোগে তাদের কাজের দামও বেড়ে গেছে দ্বিগুণ। অন্যান্য সময়ের তুলনায় দা, ছুরিতে শান দিতে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ টাকা।

রবিবার (৯ জুন) উপজেলার দোহাজারী, দেওয়ানহাট, বাগিচাহাট, গাছবাড়িয়া খাঁনহাট, বাদামতল, রওশনহাট, কালীহাট, ধামাইরহাট, বৈলতলী ইউনুস মার্কেটসহ অভ্যন্তরীন বেশ কয়েকটি বাজারে গিয়ে কামার শিল্পীদের এ ব্যস্ততা দেখা যায়। কয়লার চুলায় দগদগে আগুনে গরম লোহার পিটাপিটিতে টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে এসব কামারের দোকান। কেউ হাঁপর টানছেন, সেই হাঁপরে পুড়ছেন কয়লা, জ্বলছে লোহা। কেউ কেউ হাতুড়ি পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম।

পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বেশ আগে থেকেই ব্যস্ততা বেড়েছে বলে জানান গাছবাড়িয়া খাঁনহাট বাজারে কামার মৃদুল কান্তি দাশ। তিনি আরো জানান, রাত-দিন সমান তালে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। কোরবানের সময় শ্রমিক কর্মচারীদের মজুরি বাড়িয়ে দিতে হয়। তাই অন্যান্য সময়ের চেয়ে কোরবানিতে দা, ছুরিতে সামান্য টাকা বাড়িয়ে নিতে হয় তাদের। পাশ্ববর্তী অনামিকা হার্ডওয়ারের সত্ত্বাধিকারী আশু তোষ দাশ বলেন, কোরবানিতে দা, ছুরিসহ অন্যান্য উপকরণের চাহিদা বেড়ে যায়। আকার ও লোহার প্রকারভেদে নতুন বানানো দা, ছুরি ১০০ থেকে ১৩’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

খাঁনহাট এলাকার কামার শিবু জানান, অন্যান্য সময়ের চেয়ে কোরবানির ঈদে আমাদের কাজ বেড়ে যায়। তবে বর্তমানে লোহার দাম বৃদ্ধি থাকায় অনেকেই নতুন দা, ছুরি কেনার পরিবর্তে পুরনো দা, ছুরিতে শান দিতেই জোর দিচ্ছেন। পুরনো দা, ছুরিতে শান দেওয়ার চেয়ে তাদের বানানো নতুন দা, ছুরিতে ফায়দা বেশি হয় বলেও জানান শিবু।

কামার মানিক বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কয়লার দাম ও শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে গেছে। তবে এখন হাতে কাজ অনেক। কাজের চাপে কখন খাওয়ার সময় চলে যাচ্ছে আমরা টেরও পাই না। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে বিক্রি তত বাড়ছে। সারা বছর কাজের চাপ থাকে না। যা লাভ এই ঈদে, তাই ঈদে সামান্য একটু বেশি নিয়ে থাকি।

অপরদিকে ক্রেতা মোশারফ হোসেন মিশু বলেন, ঈদ উপলক্ষে দা, চাপাতি ও ছুরির দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। ছুরি শান দেওয়ার জন্য ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কাজের গুনাগুনের ওপর ভিত্তি করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

দোহাজারীর কামারশালায় নতুন দা, ছুরি কিনতে আসা আবদুর রশিদ নামে এক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তিনি জানান, কোরবানির ঈদের আর সময় নেই, তাই পছন্দ মতো দা, ছুরিসহ অন্যান্য উপকরণ কিনতে এসেছেন। তবে আগের তুলনায় নতুন দা, ছুরির দাম বেশি বলে জানালেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বেচাকেনা এখনো জমে ওঠেনি। আর মাত্র দশদিন পর ঈদ। এ সময়ে জমে ওঠার কথা দা-বটির বাজার, অথচ এবার বিক্রিই নেই। পুরোনো সরঞ্জামে অনেকেই শান দিয়ে নিচ্ছেন।

দেশি চাপাতিগুলো কেজি হিসেবে বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতি কেজি ওজনের চাপাতির দাম ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া বিদেশি চাপাতির দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা জানান, সারাবছর বেচাকেনা কিছুটা কম থাকে। কোনোরকম দিন যায়। এই সময়ের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি। কোরবানির ঈদের আগে এক সপ্তাহ ভালো বেচাকেনা হয়। ওই সময় দামও ভালো পাওয়া যায়। লোহার তৈরি ছোট ছুরি ১০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পশু জবাইয়ের ছুরি মিলছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। বিভিন্ন সাইজের চাপাতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। দা-বঁটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখনো পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়নি। ঈদের গরুর বাজার এখনো ভালোভাবে শুরু না হওয়াকেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। আগে মানুষ গরু কিনবে পরে ছুরি-চাপাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কিনবে। তবে কবে থেকে পুরোদমে বেচা কেনা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত