শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঝুঁকি থাকলেও মোকাবিলা সম্ভব : অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ১২:৫০ এএম

২০২৬ সালের নভেম্বরে উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে লক্ষ্য অর্জনে কিছু চ্যালেঞ্জ এবং ঝুঁকিও রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি মধ্যম আয়ের ফাঁদ। তবে ঝুঁকি থাকলেও দূরদর্শী উদ্যোক্তা আর তরুণ জনগোষ্ঠীর কাঁধে ভর দিয়ে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তবে মধ্যম আয়ের ফাঁদ এড়ানোর লক্ষ্যে মসৃণ উত্তরণ সংক্রান্ত কৌশলটিতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও নীতিনির্ধারকরা। 

গতকাল রবিবার রাজধানীতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাগ (ইউএন ডেসা) কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ‘টেকসই উত্তরণের কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা। সম্প্রতি ইউএন ডেসার সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকার উক্ত টেকসই উত্তরণের কৌশলের খসড়া প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। উক্ত খসড়া প্রস্তুতের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় মতবিনিময়ের লক্ষ্যে উক্ত কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন। ইআরডি সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গুয়েন লুইস এবং ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও এসএসজিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম জাহাঙ্গীর।

অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, আমরা জানি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর আমাদের কিছু চ্যালেঞ্জ আসবে। তবে সঠিক নীতি, পদ্ধতি ও কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করতে পারবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে এই দেশের কর্মঠ জনগণ, গতিশীল ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী। এছাড়া এই উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর সহায়তা পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথে ঝুঁকির কথা জানিয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, এলডিসি উত্তরণ হলে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিশ্ববাজারের অংশীদারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। একই সঙ্গে এলডিসির সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি মধ্যম আয়ের ফাঁদ। মধ্যম আয়ের ফাঁদ এড়ানোর লক্ষ্যে স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্রাটেজি শীর্ষক নীতি কৌশলটিতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ কৌশলপত্রটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।

ইআরডি সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি শীর্ষক নীতি কৌশলটি দেশের নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। তিনি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জসমূহকে সম্ভাবনায় পরিণত করার আহ্বান জানান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন বলেন, নীতি কৌশলটিতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি করা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ থাকা প্রয়োজন।

জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গুয়েন লুইস বলেন, জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখা, জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও পরিবেশগত মান সুনিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। কর্মশালায় টেকসই উত্তরণের কৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসটিএস সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক ড. এম এ রাজ্জাক। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মপরিকল্পনার ওপর আলোকপাত করে প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন এসটিএস সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক পরামর্শক কুয়োং মিন গুয়েন। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা এবং বেসরকারি খাত, বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত