শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন

আয়াকে পেটানোর অভিযোগ সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে 

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ০২:৩৪ পিএম

বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত এক আয়াকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোণার সিভিল সার্জন ডা. মো সেলিম মিঞার বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার বিকালে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ঝুমা আক্তার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটসোর্সিংয়ে আয়া পদে কর্মরত আছেন। 

এদিন জেলার সব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটসোর্সিংয়ের কর্মীরা বকেয়া বেতনের দাবিতে সিভিল সার্জনের অফিস ঘেরাও করে। এ সময় সিভিল সার্জন সেলিম মিঞাকে বাইরে যেতে বাঁধা দেন তারা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সিভিল সার্জন ওই কর্মীদেরকে গালমন্দ করেন এবং ঝুমাকে শারীরিক নির্যাতন করেন। পরে ঈদের আগেই বকেয়া বেতন পরিশোধে ইপিআইয়ের পরিদর্শক আব্দুল বারীর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেন তারা।

সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রত্যেক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোসিং পদে কর্মী রয়েছে। বকেয়া বেতন ভাতার জন সব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কর্মচারীরা রবিবার বিকালে সিভিল সার্জন অফিস ঘেরাও করে।

আন্দোলনকারী অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এক বছর ধরে বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে সংসারের চালিয়েছি। এখন আত্মীয়-স্বজনরাও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি। কিন্তু সিভিল সার্জন স্যার আমাদের সহকর্মী ঝুমাকে শারীরিক নির্যাতন করেছেন। তার মতো অফিসার এরকম জঘন্য কাজ করতে পারে? আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

নির্যাতনের শিকার ঝুমা আক্তার বলেন, আমরা সুশৃঙ্খলভাবে আমাদের দাবি আদায়ে আন্দোলন করছিলাম। স্যার বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তখন আমরা আমাদের দাবির কথা বলছিলাম। হঠাৎ তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার  চুলের মুষ্টি ধরে নির্যাতন করেছেন। আমি সংশ্লিষ্ট স্যারদের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। 

নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে নেত্রকোণা সিভিল সার্জন ডা. মো. সেলিম মিঞা জানান, আমি আছরের নাম পড়তে যাচ্ছিলাম। তারা মনে করেছে আমি চলে যাচ্ছি। পরে আমি বলেছি নামাজ পড়তে যাচ্ছি। আমি কি এরকম কাউকে শারীরিক নির্যাতন করতে পারি? 

ইপিআইয়ের পরিদর্শক আব্দুল বারীকে ফোনে না পাওয়া তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত