মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হারিস-জোসেফের পাসপোর্ট এনআইডি যাচাইয়ে চিঠি

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০২:২৯ এএম

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের দুই ভাই হারিছ আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ ওরফে জোসেফের পাসপোর্ট ও এনআইডি জালিয়াতির ঘটনা খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশন এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এ কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার মো. জহুরুল হক, আছিয়া খাতুন, দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমিন, জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান মনজুরুল আহসান বুলবুলসহ বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ২০২০ ও ২০২১ সালের জন্য প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিজয়ী ১২ সাংবাদিকের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও আর্থিক সম্মানী তুলে দেওয়া হয়।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান আজিজ আহমেদের বিষয়ে যে স্যাংশন দিয়েছে, একজন আইনজীবী দুদকে সেই অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার দুই ভাই মিথ্যা তথ্য দিয়ে ই-পাসপোর্ট নিয়েছেন। এটা তো আজিজের দোষ না। সেটা তার ভাই ও পাসপোর্ট ডিপার্টমেন্টের বিষয়। দ্বিতীয় হলো, ন্যাশনাল আইডি কার্ড নিয়েছে। এসব তথ্য যাচাইয়ের জন্য দুই সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি।’

অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অন্যান্য অপরাধ থেকে দুর্নীতির অপরাধ প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। জনশ্রুতি আছে, যারা দুর্নীতিবাজ তাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, তাদের দুর্নীতি আড়াল করার চেষ্টা করছি কি না তা নজর রাখতে হবে। যদি করি তাহলে আমি কী দুর্নীতির অংশীদার কি না সেটি ভাবা উচিত।’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগে আইন, বিধি ও নীতিমালা আছে। কোথাও দুর্নীতির কথা বলা নেই। ওইসব জায়গায় দুর্নীতি হচ্ছে। মন্ত্রণালয়, বিভাগসহ জায়গার দুর্নীতির পয়েন্টগুলো ছেড়ে দিয়ে বসে আছে। আর বলছে দুর্নীতি দমন কমিশন কিছুই করছে না। তারা কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দুর্নীতি দমন কমিশন পর্যন্ত কেন আসতে হয়। প্রতিটি দপ্তরের ঊর্ধতন বা কন্ট্রোলিং অফিসার দুর্নীতি বন্ধে তাদের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। এটাও আপনাদের দেখা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘দুদকের একার পক্ষে সব ধরনের দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয়। মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে এত অভিযোগ দুদকে আসত না। দুদকে অভিযোগ কম এলে মানুষ দুদকের কাছে যা চায় তা দেওয়া সম্ভব হবে। সবাই ছেড়ে বসে আছে দুদক কী করে তা দেখার জন্য, তাহলে হবে না। সবক্ষেত্রে দুর্নীতি যেন না হয় তার জন্য প্রতিরোধ করা জরুরি।’

দুদক কমিশনার মো. জহুরুল হক বলেন, ‘সমাজে যাদের ক্ষমতা আছে তারাই দুর্নীতি করে। আপনারা সিআইপি, ভিআইপি যাদের সম্মান দিয়ে এগিয়ে আনতে যান তারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে তাদের মুখ উন্মোচন করতে হবে। সামাজিকভাবে তাদের বয়কট করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাবানদের ভয় পেলে চলবে না। কালোকে সর্বদা কালো বলতে হবে, লেখনীতে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকতে হবে।’

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত