আবারও রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসার আহ্বান সিইসির

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০২:৪০ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলেও এখনো বিতর্ক থামছে না। বরং নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষ আস্থাহীন হয়ে পড়ছে বলেও সমালোচনা রয়েছে। এ সংকটকে একান্তই রাজনৈতিক বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। চলমান সংকট নিরসনে আবারও রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) আয়োজিত ‘আরএফইডি টক’-এ প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।

সিইসি বলেন, এ রাজনৈতিক সংকটটা রাজনৈতিক দলগুলোকেই বুঝতে হবে। তারা যদি মীমাংসা না করেন তাহলে কি এই অচল অবস্থা আরও ১০০ বা ২০০ বছর চলবে? কিন্তু এ সংকটের একটা নিরসন হতে হবে। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে মনে করি এ সংকট নিরসন হওয়া বাঞ্ছনীয়। আমি বিশ্বাস করি আমাদের রাজনীতিবিদরা যথেষ্ট প্রজ্ঞাবান। তাদের জ্ঞান-বিদ্যা-বুদ্ধি, প্রজ্ঞা আছে। তারা সেই অবস্থান থেকে একটা না একটা সময় উপলব্ধি করে বিরাজমান যে সংকট, তা নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূলে ছিল না। কারণ মোটা দাগে বিতর্ক ছিল, এখন সেটা বহাল আছে। সবকিছু মিলিয়ে দেশের একটা অন্যতম রাজনৈতিক দল বলেছে, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না এবং যদি করে না থাকে, ফলে প্রত্যাশিত যে ইনক্লুসিভনেস সেটা হয়নি। তবে ভোটের ভোটার এবং জনগণের অংশগ্রহণ ছিল। ইনক্লুসিভনেসের ঘাটতি ছিল। সেটা আমাদের বিষয় নয়, সেখানে আমাদের করার কিছুই ছিল না। আমরা আমাদের আহ্বান জানিয়েই যাচ্ছিলাম আসুন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। অংশগ্রহণ করলে ফল কী হতো জানি না, কিন্তু আশাবাদী ছিলাম বিরোধীপক্ষ হয়তো শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। কারণ আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার সহকর্মীরা নির্বাচন অংশগ্রহণমূলকের পক্ষপাতী। এতে করে চর্চার মাধ্যমে নির্বাচনী যে সংস্কৃতি এটা আরও বলিষ্ঠ হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, বৈরিতা কমিয়ে কিছু মৌলিক প্রশ্নে সমঝোতায় উপনীত হওয়ার চেষ্টা করুন। নির্বাচনটা যদি অবাদ-নিরপেক্ষ করতে হয়, গ্রহণযোগ্য করতে হয়, ইনক্লুসিভ করতে হয়, আমার মনে হয় এখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ সৌহার্দ্য ও সমঝোতা প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন পাঁচ মাস চলে যাওয়ার পরও সে লক্ষ্যে কোনো উদ্যোগ এখন দেখতে পাচ্ছি না।

সংলাপের প্রয়োজন, এর উদ্যোগ কে নেবে এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলব না। আমাদের দেশের যারা বিশিষ্টজন আছেন, তারা আমাদের চেয়ে ভালো বোঝেন কীভাবে সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে।

ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে পারেননি, এ দায় আপনাদের ওপর দেওয়া হয় এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ নির্বাচন করা। ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। ভোটার উপস্থিতির হার কত হবে, তার দায় আমরা নিতে পারব না।

নির্বাচন নিয়ে জনগণের আস্থা অভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আস্থা মানুষের থাকতে হবে। যদি কেউ দেখাতে পারে, রাতের আঁধারে কোথাও গিয়ে আমরা টাকা গ্রহণ করেছি, পকেটভর্তি করেছি, তাহলে আস্থা থাকবে না। দেখান যে কোন নির্বাচন কমিশনারের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা জমা হয়েছে। কাজেই আস্থা থাকবে না কেন। আমরা নির্বাচনটা নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের চেষ্টা করেছি। কোনো অসততা ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করিনি। তাই জনগণের আস্থা হওয়া উচিত, তিনি যোগ করেন।

এ ছাড়া নির্বাচন ব্যবস্থা ও সিস্টেমে আরও উন্নয়ন ও সংস্কার আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন সিইসি। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১ শতাংশ ভোটার তালিকা দেওয়ার নিয়ম আমরা তুলে দিয়েছি। জাতীয় নির্বাচনেও এটা তুলে দেওয়ার বিষয়ে আমরা পরামর্শ দিয়ে যাব।

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের দুই ভাই হারিছ আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ ওরফে জোসেফ নিজের ও বাবা-মায়ের নাম বদলে এনআইডি করেন। কীভাবে এই এনআইডি করেছেন? জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, হতে পারে, অবশ্যই হতে পারে। যেমন, খুন করার অপরাধ। অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও খুন হচ্ছে। কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে এ অপরাধ করার সুযোগটা সে পেয়েছে। কিন্তু সে যে নির্মোহ ব্যক্তিত্ব, আমরা তো সেটা বলছি না। কোনো সাফাই করি না। তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষ নিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের পরিবারের সদস্যদের জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র করে দিয়েছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।

ইভিএম সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রযুক্তির দিক দিয়ে আমাদের এগোতে হবে। আমার বিশ্বাস ছিল ভূত আছে। এভাবে বা ওভাবে দিলে ভোট চলে যায় অন্য জায়গায়। দুই বছর ধরে এটি নিয়ে কাজ করছি। ইভিএম প্রযুক্তিতে এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই। ইভিএম কিন্তু ডেমোক্রেসিকে এগিয়ে নিতে অনেক বেশি সহায়ক হবে। ইভিএম কী হবে আমি জানি না। তবে আমার এবং আমার সহকর্মীদের সুপারিশ থাকবে ইভিএমের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে দেওয়া জনগণের আস্থা ইভিএমের ওপর ফিরিয়ে আনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত