কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানি ও সরবরাহের দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো চুক্তি না করতে নির্দেশনা দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। গত মঙ্গলবার প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিপিজিসিবিএল) এক চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০০৮ অনুযায়ী সরকার কর্র্তৃক গঠিত রিভিউ প্যানেল হতে একটি আপিল চলমান থাকায় বিধিমালা অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদনের নোটিস জারি করা হতে বিরত থাকার অনুরোধ করা হলো।
সম্প্রতি দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ জমা দিয়েছে দরপত্রে অংশ নেওয়া একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম। এ ছাড়া আইএমইডিতেও সংশ্লিষ্ট দরপত্র পুনঃমূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছে ওই কনসোর্টিয়াম।
এর আগে গত এপ্রিলে আইএমইডি মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কয়লা আমদানির দরপত্র প্রক্রিয়ায় আদর্শমান বজায় রাখা হয়নি জানিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, দরপত্রে অংশ নেওয়া চারটি কনসোর্টিয়ামের আর্থিক প্রস্তাবনা মূল্যায়ন না করেই বাতিল ঘোষণা করা হয়। দরপত্রটির বাছাই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের অভিযোগ করে চিঠিতে আরও বলা হয়, বাতিলকৃত একটি আর্থিক প্রস্তাবনাকে পুনর্বহাল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও কতিপয় বোর্ড সদস্য সংঘবদ্ধভাবে বিশেষ কোম্পানিটির সঙ্গে অবৈধভাবে দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অমান্য করে গত ৫ জুন বিকেলে নেগোসিয়েশন মিটিং করেন; যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অবৈধ।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন চলতি মাস থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। জাপানের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত দুই ইউনিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদন গত বছর ২৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হলেও প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে একই মাসের ২৬ তারিখে।
দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সূত্রে জানা গেছে, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি চার প্রতিষ্ঠান যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রস্তাবনা দাখিল করলেও ‘আর্থিক সক্ষমতা নেই’ এ অজুহাতে প্রথমেই তিন প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হয়। পরে ২৭ মে কারিগরি কমিটির সভায় চারটি কনসোর্টিয়ামের সবগুলোর আর্থিক প্রস্তাবনা বাতিল হয়। সর্বশেষ ৩১ মে সিপিজিসিবিএলের বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যামান পরিস্থিতিতে জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় বাতিলকৃত ‘ইউনিক সিমেন্ট কনসোর্টিয়ামকে’ নিয়ে সমঝোতা করার অনুমোদন দেওয়া হয়। যদিও প্রকল্প কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে দরপত্র বাতিল হওয়া তিন কনসোর্টিয়ামের একটি গত ২৯ মে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে দরপত্র পুনঃমূল্যায়নের জন্য আবেদন করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
দরপত্রের প্রাথমিক শর্তানুযায়ী কমপক্ষে ১২ মিলিয়ন টন কয়লা আমদানির অভিজ্ঞতার শর্ত উল্লেখ ছিল; যা কয়লা আমদানি সংশ্লিষ্ট দরপত্রের জন্য একটি প্রাসঙ্গিক শর্ত। কিন্তু একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে ‘অনৈতিক সুবিধা’ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই শর্তটি শিথিল করে একই পরিমাণ লোহা, সার, কেমিক্যাল, সিমেন্ট অথবা খাদ্যশস্য আমদানির অভিজ্ঞতাকে যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়; যা একটি অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
