২৫ বছর বয়স না হলেও বয়স বাড়িয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার পপি খাতুন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনি বিজয়ী হয়ে চমক দেখিয়েছেন। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী নন, স্থানীয়ভাবে ব্যাপক পরিচিতিও নেই। এরপরও তিনি বিজয়ী হয়েছেন। এ নিয়ে চলছিল আলোচনা। এরই মধ্যে বয়স নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে ভাইস চেয়ারম্যান পপির বিরুদ্ধে। মোসা. পপি খাতুনকে জনপ্রতিনিধির পদ থেকে অপসারণের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন পপির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোসা. চেন বানু এ অভিযোগ দেন।
অভিযোগের অনুলিপি রাজশাহীর সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহিনুর ইসলাম প্রামাণিক এবং পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সরকার অসীম কুমারকে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে চেন বানু বলেন, পপি খাতুনের প্রকৃত বয়স ২২ বছর হলেও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার উদ্দেশ্যে শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ভুয়া ভোটার পরিচয়পত্র তৈরি এবং তার সনদপত্রে জালিয়াতির মাধ্যমে বয়স বাড়িয়ে ২৫ বছর করার তথ্য উঠে এসেছে। তিনি বলেন, পপি খাতুনের জালিয়াতির কারণে আমি নির্বাচিত হয়েও প্রাপ্ত ফলাফল থেকে বঞ্চিত হয়েছি। জালিয়াতির মাধ্যমে প্রার্থী হয়ে পপি খাতুন নির্বাচিত হওয়ায় উপজেলা নির্বাচন আইনের লঙ্ঘন করেছেন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাহীনতার সংকট সৃষ্টি করেছে। পপি খাতুনের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে আরও অবৈধ তৎপরতার ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে এলাকার জনসাধারণ বিশ্বাস করে। চেন বানু অভিযোগপত্রে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক পপির প্রার্থিতা বাতিল করে তাকে বিজয়ী করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে দাবি জানান।
রাজশাহীর সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার শাহিনুর ইসলাম প্রামাণিক বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি আবেদনের অনুলিপি আমি পেয়েছি। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। কারণ, অভিযোগটি প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর করা হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচন-পরবর্তী কোনো অভিযোগ করতে হলে নির্বাচন আইন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল কিংবা আপিল ট্রাইব্যুনালে করতে হয়। তবে এ অভিযোগটি যেহেতু প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর করা হয়েছে তাই তিনি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করতে চাইলে সেটি হয়তো পারেন বলেও জানান এ নির্বাচন কর্মকর্তা।
জানা গেছে, পবা উপজেলার ধর্মহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে পপি খাতুন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাস করেন। ওই সনদ অনুযায়ী, তার জন্মতারিখ ২০০৩ সালের ১২ জানুয়ারি। আর ২০১৭ সালে স্থানীয় দারুশা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করেন। তার এসএসসির কাগজপত্রে জন্মতারিখ রয়েছে ২০০২ সালের ১২ জানুয়ারি। চলতি বছরের সর্বশেষ ভোটার তালিকাতেও পপির জন্মতারিখ ২০০২ সালের ১২ জানুয়ারি। তার ভোটার নম্বর ৮১০৮১৩০০০১৮৮। তবে নির্বাচনের আগে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পপি তার সব সনদের ক্ষেত্রে জন্মতারিখ পরিবর্তন করে ১৯৯৮ সালের ১২ জানুয়ারি করার আবেদন করেন। গত ২৩ এপ্রিল শিক্ষা বোর্ডের নাম ও বয়স সংশোধন কমিটির সভায় তা পাস হয়।
গত ২০ মার্চ জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করেন তিনি। এ আবেদনের ভিত্তিতে ২৯ এপ্রিল তার জাতীয় পরিচয়পত্রেও বয়স পরিবর্তন হয়। এরপরই তিনি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দেন। পপি খাতুন ২৪ হাজার ২৭৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। গত ৪ জুন বিজয়ীদের নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করেছে। পপি এখন শপথ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
