সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভারতীয় গরু নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪, ০১:৫৫ পিএম

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুমিল্লার কোরবানির পশুর হাটগুলোতে জমে উঠেছে পশু বেচাকেনা। প্রতিবারের মতো এবারও চাহিদা বেশি ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর। পর্যাপ্ত রয়েছে ছাগল ও ভেড়ার। কুমিল্লার পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পশুর সরবরাহ রয়েছে জানিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

তবে এ বছর কুমিল্লার খামারি ও গৃহস্থ খুচরা পশুপালনকারীরা শঙ্কায় চোরাই পথে আসা ভারতীয় গরু নিয়ে। কুমিল্লা জেলায় ভারতের সাথে রয়েছে ১০২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা। এই বিশাল সীমান্তে প্রায় ৫০টিরও বেশি স্পট দিয়ে অবৈধ পথে আসছে ভারতীয় গরু। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে আনা গরু চোরাকারবারিরা ঈদুল ফিতরের পর পরই ভারতীয় গরু মজুদ করা শুরু করেছে। আর ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ওই সকল চোরাই পথে দিনরাত আসছে ভারতীয় গরু। যাতে করে খামারিরা তাদের খামারে ও ব্যক্তিগতভাবে লালনপালন করা গৃহস্থরা পড়েছেন বিপাকে।

ভারত ও বাংলাদেশের চোরাকারবারিরা ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও এ পারের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কে ম্যানেজ করে গরুগুলো চোরাইপথে নিয়ে আসা হয়। যাতে করে ক্ষতির সম্মুখীন হন স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় গরুগুলো দেখতে পরিপুষ্ট, দাম তুলনামূলকভাবে কম। তাই এর চাহিদাও রয়েছে অনেক।

ঈদুল আজহায় জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার কুমিল্লার ১৭ উপজেলায় এবার ২ লাখ ৭৯ হাজার ১২০টি কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরীতে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৮৮টি পশু প্রস্তুত করেছেন স্থানীয় খামারিরা। জেলা-উপজেলার বিভিন্ন খামারে এসব পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এখন পশুগুলো পরিচর্যা করে হাটে নিয়ে আসছেন কুমিল্লার খামারিরা।

পরিচর্যাকারীরা জানান, একটু বেশি দামের আশায় ঈদের জন্য তারা পশুর বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ পুষ্টিকর খাবারের যোগান দেওয়া হচ্ছে এসব পশুকে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় কোরবানির জন্য যে পরিমাণ পশু রয়েছে তাতে চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৯ হাজার ৬৬৮টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার পোদ্দার বলেন, কোরবানির ঈদকে ঘিরে এ বছর আমাদের পর্যাপ্ত পশু মজুত রয়েছে। উদ্বৃত্তও থাকবে। তিনি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় পাচারকারীদের বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলে জানান।

তবে এবার দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে। গরু বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকায়। আর মাঝারি আকারের গরু বিক্রি হচ্ছে দেড় লাখ টাকায়। ছাগলও সর্বনিম্ন ১০ হাজারের নিচে বিক্রি হচ্ছে না। মাঝারি আকারের ছাগল বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, হাটে মাঝারি আকারের গরু সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। হাটগুলোতে উপচেপড়া ক্রেতার উপস্থিতি দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার তারাশাইল হাট, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পশুরহাট, চানপুর হাট ও নেউরা হাটে গিয়ে দেখা গেছে, মাঝারি আকৃতির গরু ১ লাখ থেকে দেড় লাখে বিক্রি হচ্ছে। এসব গরুর চাহিদাও বেশ। এ ছাড়া অনেক ছোট গরুও হাটে এসেছে। সেগুলোও বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ হাজারের মধ্যে।

কুমিল্লার নেউরা পশুর হাটে বিক্রেতা আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, ২০টি গরু নিয়ে হাটে আসছি। একটির দাম চেয়েছি ১ লাখ টাকা ও বাকি তিনটা ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে। এর মধ্যে একটি গরু ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।

গরু ক্রেতা উজ্জল তালুকদার বলেন, এ বছর গরুর দাম তুলনামূলক বেশি। এক থেকে দেড় লাখ টাকা দামের গরুগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। ছোট ও মাঝারি আকারের এই গরুগুলোর চাহিদা বেশি। যে গরু পছন্দ হচ্ছে তা দেড় লাখের নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই হাটে গরু দেখছি। পছন্দ আর দামে হলে গরু নেব।

কুমিল্লা সদর উপজেলায় এ বছর স্থায়ী পশুরহাট ৭৫টি ও সারা জেলায় ৪০৯টি। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ পর্যন্ত অস্থায়ী হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৩১০টি। তবে অস্থায়ী হাটের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

ঈদুল আজহা উদযাপন ও কুমিল্লার হাট-বাজার এবং খামারি গরু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় কুমিল্লা পশুর বাজারের ইজারাদারদের সাথে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। এতে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আব্দুল মান্নান। তিনি দেশ রূপান্তকে জানান, গরু ব্যবসায় ও ক্রেতাদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে আইনশৃংখলা বাহিনী।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত