বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

২০ বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কারা হেফাজতে কত মৃত্যু, জানতে চান হাইকোর্ট

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪, ০৭:৪৭ পিএম

দেশে গত ২০ বছরে হেফাজতে কতজন ব্যক্তি মারা গেছেন তার তথ্য চেয়েছে উচ্চ আদালত। ছয় মাসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবকে প্রতিবেদন আকারে এ তথ্য হাইকোর্টে দিতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রুল দেন। গত ১০ জুন এ আদেশ হলেও আজ শনিবার (১৫ জুন) সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। রিট আবেদনের ওপর আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন ও শাহীনুজ্জামান শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

আইনজীবীদের তথ্য মতে, চট্টগ্রাম কারাগারে রুবেল দে নামে এক হাজতির অস্বাভাবিক মৃত্যু ও তাকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ জানুয়ারি বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জ্যৈষ্টপুরার বাসিন্দা সুনীল দে—এর ছেলে রুবেল দে (৩৮) কে চোলাই মদ বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা রুবেলকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে, রুবেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে।

মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষে ক্ষতিপূরণ চেয়ে গত ১৯ এপ্রিল আসকের পক্ষে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি শুনানিতে আসে।

অ্যাডভোকেট নাসরিন দেশ রূপান্তকে বলেন, ‘রুবেল দে’র পরিবার বলেছে, সুস্থ অবস্থায় তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে নির্যাতন করা হয়। এমনকি চিকিসকেরাও বলেছেন যে, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছেন তারা। আমরা এ ঘটনায় বিচারিক তদন্তের নির্দেশনা ও গত ২০ বছরে হেফাজতে মৃত্যুর পরিসংখ্যাণ চেয়েছিলাম। আদালত এ বিষয়ে আদেশ ও রুল দিয়েছেন।’ 

তিনি জানান, রুলে হেফাজতে রুবেল দের মৃত্যুর অভিযোগে বিচারিক অনুসন্ধানে বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে  না, এ ঘটনার বিচারিক অনুসন্ধান ও ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে আদালত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, আইন, বিচার সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, কারা মহাপরিদর্শক, চট্রগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম  বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, চট্টগ্রামের বোয়ালখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপ—-পরিদর্শক এস এম আবু মুসা, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয়  কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে রুলের জবাব দিতে বলেছে হাইকোর্ট।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত