বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ঘিরে ফেনীতে মোবাইলে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে চলছে জুয়ার আসর। বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে খেলা নিয়ে ধরছে বাজি। যদি তার দল জিতে তবে, তিনি পাবেন তার তিন গুণ টাকা। আবার হারলে হারাতে হবে বাজিকৃত টাকা।
মোবাইলে নিজের নিবন্ধনকৃত অ্যাপসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা হলে তা বাংলাদেশে প্রচলিত মোবাইল ব্যাংকিং হিসেবে জমা ও উত্তোলন করা যায়। শুরুতে জিতিয়ে কিছু টাকা দিয়ে আসক্ত করা হয় তাদের। টাকার অঙ্ক বাড়লে অ্যাপস আর কাজ করে না। এভাবেই নিঃস্ব হচ্ছেন ফেনীর স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণ-তরুণীরা। বর্তমানে প্রযুক্তির অপব্যবহারে অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে এসব জুয়া। ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবলসহ প্রায় সব খেলায় ইন্টারনেট ব্যবহার করে এ ধরনের জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে তরুণসমাজ। লোভে পড়ে শিক্ষার্থী ও তরুণরা এই জুয়ায় বেশি আসক্ত হচ্ছেন।
ফুটবল কিংবা ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফেনীতে এসব বাজির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। পুলিশ প্রশাসন তৎপর থাকলেও বন্ধ হচ্ছে না এসব অনলাইন গেম ও বাজি।
এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভার্চুয়াল জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। অবৈধ প্রক্রিয়ায় এই ডিজিটাল মুদ্রা কেনাবেচায় শত শত কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের বাইরে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুতই এই জুয়া বন্ধের আহ্বান জানান তারা।
বর্তমানে অনেক যুবক আকৃষ্ট হচ্ছেন বিভিন্ন জুয়ার সাইটে। তারা পাঁচ-দশ হাজার টাকার বিনিয়োগে শুরু করে লোভে পড়ে একপর্যায়ে খোয়াচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। জুয়ার এই সাইটের অধিকাংশ পরিচালনা করা হচ্ছে ভারত, দুবাই, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশ থেকে। বিদেশ থেকে পরিচালিত এসব সাইট পরিচালনা করছেন বাংলাদেশের এজেন্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেনীর এক কিশোর বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে কয়েকটি অ্যাপস রয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রথমে টাকা জমা দিতে হয়। সেই টাকা দিয়ে বিশ্বকাপ লাইভ চলাকালে কয়েক ধরনের বাজি ধরা যায়। যেমন জয়-পরাজয়, প্লেয়ারের রান-উইকেট, ওভারকেন্দ্রিক রান নিয়ে জুয়ারিরা বাজি ধরেন কয়েক গুণ বেশি লাভের আশায়। জিতে গেলে মূল টাকার সঙ্গে তা যোগ হয় এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়।’
ফেনী জেলা সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং, ক্রেডিট বা ডেভিড কার্ড সহজলভ্য হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকে পড়েছেন অনলাইন জুয়ায়। এই সুযোগে অপরাধী চক্র বিদেশে পাচার করছে কোটি কোটি টাকা। সবার চোখের সামনে এটা অবাধে চললেও খুব বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, অনলাইনে জুয়া মূলত ব্যক্তিগতভাবে ঘরোয়া পরিবেশে খেলে। পুলিশ এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা তথ্য পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
