কোরবানির ফজিলত

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৪, ০৯:২৫ পিএম

ঈদুল আজহার অন্যতম ইবাদত পশু কোরবানি করা। পূর্ববর্তী শরিয়তসমূহে কোরবানির বিধান থাকলেও পদ্ধতিগত ভিন্নতা ছিল। আমাদের কোরবানি হচ্ছে ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক নিজ ছেলে ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি করার মতো মহান ত্যাগ ও মানসিকতার স্মৃতিচারণের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অপার সুযোগ। পাশাপাশি ঈদুল আজহার শ্রেষ্ঠ আমল। সেদিন পিতা-পুত্র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে কোরবানির জন্য আল্লাহতায়ালা ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে বেহেশত থেকে দুম্বা পাঠিয়ে কোরবানির বিধান কার্যকর করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেন। যে বিষয়টি কোরআন-হাদিসে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর পরবর্তীদের মধ্যে এই ঐতিহ্য (কোরবানি) স্মরণীয় (চালু) করে রাখলাম।’ (সুরা সাফফাত ১০৮)

কোরবানির নির্দেশ প্রদান করে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য নামাজ আদায় করুন এবং কোরবানি করুন।’ (সুরা কাউসার ২)। উল্লেখ্য, কোরবানির পশুর গোশত খাওয়ার বিধান শুধু রাসুল (সা.) ও তার উম্মতকে বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

কোরবানির ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন ‘আল্লাহতায়ালার নিকট কোরবানির দিন মানবজাতির কোরবানি অপেক্ষা অধিকতর পছন্দনীয় কোনো আমল নেই। বিচারদিনে কোরবানির পশুকে তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত করা হবে। পশুর রক্ত জমিনে পড়ার পূর্বেই আল্লাহতায়ালার নিকট তা বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে যায়। সুতরাং তোমরা আনন্দচিত্তে কোরবানি করো।’ (তিরমিজি)

যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) বর্ণনা করেন, ‘কোরবানি সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, কোরবানি কী? রাসুল (সা.) উত্তরে বলেন, তোমাদের পিতা ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) জিজ্ঞেস করেন, এতে আমাদের জন্য কী পুণ্য রয়েছে? রাসুল (সা.) বলেন, প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে পুণ্য রয়েছে। আবার জিজ্ঞেস করেন, (অধিক) পশম বিশিষ্ট পশুর (ভেড়া) বেলায় কী হবে? রাসুল (সা.) বলেন, প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে পুণ্য রয়েছে।’ (মিশকাত)

আবার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করার ব্যাপারে হাদিসে কঠোর হুশিয়ারি ঘোষণা করা হয়ছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি করল না সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।’ (ইবনে মাজাহ)

বলা বাহুল্য, কোরবানিসহ মোমিনের প্রতিটি ইবাদত ও পুণ্যকাজ শুধু আল্লাহতায়ালার হুকুম পালন এবং সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশে হতে হবে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘বলো, নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম ১৬২)।

আল্লাহতায়ালা আরও ইরশাদ করেন, ‘কোরবানির জন্তুর গোশত, রক্ত আল্লাহর নিকট পৌঁছে না, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া (অন্তরের বিশ^স্ততা)।’ (সুরা হজ ৩৭)।

কোরবানিদাতার জন্য সর্বাগ্রে আবশ্যক হচ্ছে, নিয়ত পরিশুদ্ধ করা তথা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের লক্ষ্যে এবং হুকুম পালনার্থে কোরবানি করা। পাশাপাশি কিছু জরুরি

মাসআলাও জেনে নিতে হবে। যাতে করে শরিয়ত নির্দেশিত পন্থায় নিখুঁত ও সঠিকভাবে কোরবানি সম্পাদন করা যায়। অন্যথায় কোরবানি ত্রুটিযুক্ত এবং কবুল হওয়ায় ব্যাপারে ঝুঁকি থেকে যায়। কোরবানি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ উল্লেখ করা হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত