ব্যাপক বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় জেলা সিলেট এবং সুনামগঞ্জের বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে দুই জেলা শহরের কোথাও কোথাও সড়ক এখন হাঁটু থেকে কোমর সমান পানির নীচে। উভয় জেলায় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
সুরমাসহ দুই জেলার নদীগুলোর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণ, বজ্রপাত ও ঝড় বয়ে যেতে পারে এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে। আবার সুনামগঞ্জের ছাতকের নিকটবর্তী ভারতের চেরাপুঞ্জিতে প্রবল বৃষ্টির ঢলের কারণে আরও পানি বাড়ার আশংকা করা হচ্ছে।
বুধবার (১৯ জুন) সকাল থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নগরীর অভিজাত এলাকা উপশহর, তালতলা, জামতলা, ছড়ারপাড়, শেখঘাট, মাছিমপুর, ঘাসিটুলা, শামীমাবাদ ও বাগবাড়িসহ বিভিন্ন নিচু এলাকা তলিয়ে যেতে শুরু করে। দুপুর ১২টার দিকে কয়েকটি এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি দেখা গেছে। এতে চরম আতংকে রয়েছেন বাসিন্দারা। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে শুরু করেছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বেলা ১২টা নাগাদ সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৪২ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শহরের সব জায়গায় এখন পানি। কাল থেকে পানি একটু কম ছিল। কিন্তু আজ সকাল থেকে আবার বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় পানি বাড়ছে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় আরও ঝড় বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকাটি সুরমা নদীর তীরে। এখন নদীর পানি তীর ছুঁই ছুঁই করছে। আবার উপশহরসহ কিছু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানির কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
সিলেট উপশহর এলাকার আমিনুল হক বলেন, ঈদের দিন থেকে বাসায় হাঁটুসমান পানি। ইটের ওপর খাট রেখে কোনোমতে থাকতে হচ্ছে। পানি গতকাল কিছুটা কমলেও আজ ফের বাড়তে শুরু করেছে। যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে আর বাসায় থাকা সম্ভব হবে না। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, পুরো জেলায় ইতিমধ্যে ১৯ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল থেকে অঝড় ধারায় বৃষ্টি হয়েছে। কিছু এলাকা বাদ দিলে পুরো জেলা প্লাবিত। উঁচু রাস্তাঘাট ছাড়া সব জায়গায় পানি। জেলার আট লাখ মানুষ এখন বন্যা আক্রান্ত।
তিনি আরও বলেন, আজ আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় অনেক এলাকায় পানি বেড়েছে। মূলত বৃষ্টি বন্ধ হলে কয়েক ঘণ্টায় পানি কমে যায়। কিন্তু বৃষ্টি হলেই বাড়ে। এখন অব্যাহত বৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে, সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, সিলেটে বুধবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত একশো মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর নয়টা পর্যন্ত আরও ৫৫ মি.মি. এবং বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৭ মি.মি. বৃষ্টি হয়েছে। আরও কয়েকদিন এমন অবস্থা থাকতে পারে।
সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত
তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সরানো হবে: মেয়র আতিক
বাস-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে মাছ ব্যবসায়ী নিহত
অধরা-সুমন ফারুকের ‘সুলতানপুর’ হিন্দিতে মুক্তি পেল