হাটের ডাক নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৪, ১২:২১ এএম

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাটের খাস কালেকশনের ডাককে কেন্দ্র করে নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুছ বাবুলের গ্রুপ ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান চয়নের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে সদর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের সামনে এ সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ৩৩ জন কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং অন্যরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত ৩ জন হলেন ফজলে রাব্বি (৩০), মজিবুর রহমান (৫২) ও মামুনুর রশিদ (২৮)।

জানা যায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় থেকেই নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুছ বাবুল ও পরাজিত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান চয়নের মধ্যে রাজনৈতিক গ্রুপিং শুরু হয়। বাবুল স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাক আহমেদ রুহীর আস্থাভাজন এবং নির্বাচনে তার সমর্থন পান। অপরদিকে চয়ন সংসদ সদস্যের আপন চাচাতো ভাই হলেও নির্বাচনে সমর্থন পাননি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর উপজেলা প্রশাসন হাট-বাজার ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ বছর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সরকার নির্ধারিত দরে ইজারা নিতে আগ্রহী কেউ শর্ত পূরণ করে শিডিউল জমা দিতে পারেনি। ফলে ওই শিডিউল বাতিল হয়। এ কারণে ভূমি অফিস প্রতি সপ্তাহে খাস কালেকশনের জন্য উন্মুক্ত ডাক দেয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দর হাঁকানো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কালেকশনের অনুমতি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খাস কালেকশনের জন্য উন্মুক্ত ডাকের আহ্বান করা হয়। ডাক প্রক্রিয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই মুস্তাফিজুর রহমান চয়নের গ্রুপ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাই আবদুল ওয়াদুদ রতন নিজেদের নামে বাজার নিতে কয়েকশ সমর্থক নিয়ে মহড়া দিতে থাকেন। ডাক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ামাত্রই ভূমি অফিসের সামনে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুছ বাবুল বলেন, ‘চয়ন আমার সঙ্গে নির্বাচনে হেরে বেপরোয়া হয়ে গেছে। ইউএনও ও এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে সদরের হাট খাস কালেকশনের জন্য ডাক প্রক্রিয়া শুরু করে। পরে চয়ন ও তার লোকজন জোরপূর্বক তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। আমার ভাইসহ আমার লোকজনের ওপর হামলা করে। এতে আমার ২০-৩০ জন লোক আহত হয়েছে।’

মুস্তাফিজুর রহমান চয়নের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষে আহত ৩৩ জনের মতো হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ জনকে ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ইজারা না হওয়ায় খাস কালেকশনের জন্য প্রতি সপ্তাহে উন্মুক্ত ডাকের ব্যবস্থা করা হয়। শনিবার দুপুরে ডাকের প্রক্রিয়া শুরু হলে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।’

কলমাকান্দা থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুল হক বলেন, ‘উপজেলা শহরের প্রতি মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত