বছর দুয়েক আগের কথা। স্কটল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরের বছর আবার বাছাইপর্বে হেরে গিয়ে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করতে পারেনি। তাতে উইন্ডিজ ক্রিকেটে নেমে এসেছিল ঘোর অন্ধকার। ‘ঈশ্বরের অভিশাপ নেমে এসেছে’ বলে তখন মন্তব্য করেছিলেন কোচ ড্যারেন স্যামি। বলা হচ্ছিল এপিটাফ লেখা হয়ে গেছে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের।
তবে বছর যেতে না যেতে সেই দ্বীপপুঞ্জ এবার কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপের আয়োজক। যে দল দুই বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব পাড় করতে পারেনি, সেই দলটির সমর্থকরা তখন মুখ ফিরিয়ে নেবেন এটাই হয়তো স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু টুর্নামেন্টটা যেহেতু ঘরের মাঠে, তাই প্রত্যাশাটা বেড়ে গিয়েছিল। মাঠে দর্শকদের উপস্থিতিই সেটা বলে দিয়েছিল।
রোভম্যান পাওয়েলের নেতৃত্বাধীন উইন্ডিজ অবশ্য এবার খুব যে হতাশ করেছে, তা কিন্তু নয়। গ্রুপ পর্বের বাধা ডিঙিয়ে তার দল নিশ্চিত করেছিল সুপার এইট। তবে ঘরের মাঠ বলে প্রত্যাশা ছিল শিরোপা উঁচিয়ে ধরার। তাদেরকে তাই ফেভারিটও ধরা হয়েছিল। কারণ পৃথিবীজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের যে দাপট, সেখানে কদর বেশি উইন্ডিজ ক্রিকেটারদেরই। তাই এই সংস্করণে তাদেরকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বিবেচনা করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারা সেটা পারেননি। সেমিফাইনালের আগেই তারা বিদায় নিয়েছেন টুর্নামেন্ট থেকে। তবে গতবারের চেয়ে তো এবার সাফল্যটা বেশিই। সবশেষ আসরে যারা বাছাইপর্ব ডিঙাতে পারেনি, তারা এবার খেলেছে সেরা আটে।
ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে বিশ্বকাপ ফিরেছিল ১৪ বছর পর। এক যুগের বেশি সময় পর সেখানকার দর্শকদের মাঝেও ছিল বাড়তি উন্মাদনা। কিন্তু সেটা মাঝপথেই শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশ দলটির অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল। আবার একটি ক্ষেত্রে তিনি খুশি। কারণ প্রায় ‘মৃত’ হয়ে যাওয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট উন্মাদনা আবার জেগে উঠেছে বলে।
ম্যাচ শেষে তিনি গত আসরের চেয়ে এবার সাফল্য বেশি জানিয়ে বলেছেন, ‘বড় পরিসরে যদি দেখেন, তাহলে আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারিনি। কিন্তু গত ১ বছর ধরে আমরা যেভাবে খেলেছি, তা প্রশংসনীয়। দলের সব ক্রিকেটারদেরকে সেই কৃতিত্ব দিতে হবে। র্যাংকিংয়ের ৯ থেকে যদি ৩ নম্বরে আমরা উঠে আসতে পারি সেটাই হবে দারুণ কাজ।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারিনি, তবে আগের আসর থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে। উইন্ডিজ ক্রিকেট নিয়ে আবার মাতামাতি শুরু হয়েছে, এটা ভালো লাগছে। প্রমাণ করে আমরা গত ১ বছরে ভালো কাজ করেছি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য। এটা দেখে ভালো লাগছে যে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দর্শকদের মাঝে আবার সেই উন্মাদনা ফিরে এসেছে। কারণ আমরা জানতাম, এটা মরে গিয়েছিল। এখন মানুষ আবার আমাদেরকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছে। গ্যালারিতে এসে আমাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে।’
শুধু মাঠেই নয়। মাঠের বাইরেও অনেক সমর্থন তারা পেয়েছিলেন বলে জানান পাওয়েল। তাতেই তিনি মনে করেন দেশের ক্রিকেট সঠিক পথে এগোচ্ছে, ‘আমরা যে সমস্ত ভেন্যুতে খেলেছি, সেগুলো যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন মানুষ লাইক-কমেন্ট আর শেয়ারের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন। যে ভালোবাসা আমরা দর্শকদের কাছ থেকে পেয়েছি সেটা আমরা প্রশংসা করি। এখন যখন আমরা জাতীয় সংগীত বাজতে শুনি, খেলোয়াড় হিসেবে আমরা কিছু অনুভব করি। আমি মনে করি এটি সঠিক পথেই এগোচ্ছে।’
আপাতত উইন্ডিজের বিশ্বকাপ মিশন শেষ। এখন লক্ষ্য তাদের ফিরে পাওয়া সেই দর্শক উন্মাদনাকে ধরে রাখা।
ম্যাচ শেষে পাওয়েল, ‘ব্যাটিং পারফরম্যান্স ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করব’
ঘরের মাঠে এবারও সেমিফাইনালের আগেই বাদ উইন্ডিজ
৩৭-এ কি আরেকটি শিরোপা