বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাঙালির আস্থা ও নির্ভরতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৪, ১২:০৪ এএম

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাত ধরেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এটি এমন একটি রাজনৈতিক দল, দেশ স্বাধীন হওয়ার অর্ধশত বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও দেশ ও দেশের জনগণের কাছে যার আবেদন একটুও কমেনি। ২০২৪ সালের শুরুটা ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। কারণ ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া জাতীয় সংসদের নির্বাচনকে ঘিরে দেশে বিদেশে শুরু হয়েছিল নানা ষড়যন্ত্র, কূটকৌশল। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য, বলিষ্ঠ, বিচক্ষণ ও দক্ষ নেতৃত্বে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক ও বাহক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছেন। এটা বাংলাদেশের জন্য বাংলার জনগণের যথার্থ সিদ্ধান্ত। ওই নির্বাচনে বিজয় হয়েছে বাংলাদেশের ও বাংলাদেশের জনগণের। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আবারও পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। দেশরতœ শেখ হাসিনা মাথা নত করতে জানেন না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও মাথা নত করতে জানে না। কোনো বিদেশি শক্তি, অপশক্তি ও ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে রোধ করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ভাষাতেই দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়েই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। সব বাধা অতিক্রম করে এখন শুধুই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সময়।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সমকক্ষ বা সমান দাবিদার কোনো রাজনৈতিক দল নেই। অতীতের মতো বর্তমানেও দেশে আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনৈতিক দল একমাত্র আওয়ামী লীগই। আবার দেশ পরিচালনাতেও আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নেই। সহজভাবে বলতে গেলে আওয়ামী লীগের হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ। দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আওয়ামী লীগ থাকলে পথ হারাবে না বাংলাদেশ। দেশের যত বড় বড় অর্জন তা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই করেছে। বাংলাদেশের তিনটি বড় অর্জন রয়েছে। এক. মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দান ও স্বাধীনতা অর্জন। দুই. দেশের সংবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠন ও দেশকে খাদ্য, বাসস্থান, কৃষি উৎপাদন, যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে পরিচালিত করা। তিন. যে আদর্শ ও চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তা ধারণ এবং বাস্তবায়ন করা।

সত্যি কথা বলতে, আওয়ামী লীগ পূর্ণতা পায় বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। দলটির প্রতিষ্ঠাকালে বঙ্গবন্ধু ছিলেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। বঙ্গবন্ধু ঐ সময়ে কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। ১৯৫২ সালে বঙ্গবন্ধু সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রকৃতপক্ষে, ১৯৬৬ সাল পর্যন্তই নয় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী যত আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দেশ স্বাধীনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনসহ যত ঐতিহাসিক কার্যক্রম তা আওয়ামী লীগের হাতেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এর প্রধান নেতৃত্বে ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায় স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কার্যক্রম শুরু হয়। উল্টোপথে চলতে শুরু করে দেশ। শুরু হয় ইতিহাস বিকৃতি। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে দেশ ও দেশের জনগণকে মুক্ত করতে কা-ারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। দিশেহারা সমগ্র জাতিকে উদ্ধারে আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব পান জননেত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরেই স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পরিপূর্ণতা লাভ করে বর্তমানের আলোকিত গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানে পৌঁছেছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সংগ্রাম, সাফল্য ও গৌরবের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল।

২০৪১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশ যেমন উন্নত দেশে পরিণত হবে, তেমনি ‘রূপকল্প ২০৪১,’ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট গভর্নেন্স, স্মার্ট ইকোনমি ও স্মার্ট সোসাইটিও বাস্তবায়ন হবে। বাংলাদেশের জনগণ হবে বিশ্বের বুকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী উন্নত দেশের সৌভাগ্যবান গর্বিত নাগরিক। তবে স্বাধীনতাবিরোধীরা এখনো তৎপর। তারা আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের প্রশংসার পরিবর্তে দিনরাত অযৌক্তিক সমালোচনা করছে। স্বাধীনতাবিরোধীরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতিনিয়ত প্রতারণা অব্যাহত রেখেছে। তাই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের রুখতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।

চলমান অভাবনীয় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দেশ পরিচালনার পথকে রাখতে হবে বাধাহীন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত উন্নত বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে কাজ করে যেতে হবে। বাংলার প্রতিটি মানুষের উন্নত, সুখী ও সৃমদ্ধ, স্বাস্থ্যকর সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেযার যা দায়িত্ব তা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। বাঙালিকে নিজের দেশ নিয়ে বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিকল্প নেই। আমাদের দেশ ক্রমাগত উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে, এমনটি প্রত্যাশা। সাধারণ মানুষের জয় নিশ্চিত। বাঙালি কোনোদিন হারেনি, হারবে না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই তাদের আস্থা ও নির্ভরতার বিশ্বস্ত প্রতীক।

লেখক : উপ-উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত