পূর্ব এশিয়ায় ধর্মবিশ্বাস পরিবর্তনের হিড়িক!

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৪, ১২:১৬ এএম

পূর্ব এশিয়ার মানুষের ধর্মবিশ্বাস বদলাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন করা বা ধর্মকে অস্বীকার করা মানুষের সংখ্যা বিশ্বের অন্যান্য অংশের তুলনায় পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় তুলনামূলক বেশি।

বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনমত জরিপ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিউ রিচার্স সেন্টারের সাম্প্রতিক জরিপে ১০ হাজারের বেশি লোককে তাদের বিশ্বাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং তাদের অনেকেই বলেছিল যে তারা যে ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে বড় হলেও এখন তারা আলাদা ধর্মীয় পরিচয় ধারণ করে। কেউ কেউ কোনো ধর্মেই আস্থা রাখে না। 

পিউ রিচার্স সেন্টারের জরিপে দেখে গেছে, হংকং ও দক্ষিণ কোরিয়ার ৫৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা তাদের ধর্মকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়াসহ তাদের ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন করেছেন। তাইওয়ানে ৪২ শতাংশ লোক তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস পরিবর্তন করেছিলেন এবং জাপানে এই হার ছিল ৩২ শতাংশ।

এবারের জরিপের ফলাফলকে ২০১৭ সালে ইউরোপের ওপর করা জরিপের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ওই সময় এমন কোনো দেশ খুঁজে পাওয়া যায়নি, যেখানে ধর্ম পরিবর্তনের হার ৪০ শতাংশ অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক যে বিশ্বাসের মাঝে বেড়ে উঠেছে, বড় হওয়ার পর তাদের সেই ধর্মের কোনো যোগসূত্র নেই।

বিবিসি বলছে, বিশেষ করে যারা খ্রিস্টান হিসেবে বেড়ে উঠেছে, তারাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধর্ম বদল করেছেন বা ধর্ম ত্যাগ করেছেন। তবে শুধু খিস্টান ধর্মের প্রতিই মানুষ আস্থা হারাচ্ছে না। যারা বৌদ্ধ ধর্মের ছায়াতলে বেড়ে উঠেছে, তাদের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ এখন আর বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাস করে না। হংকং ও জাপানে এই হার ১৭ শতাংশ। তবে ওই অঞ্চলের মানুষ নতুন ধর্ম বা বিশ্বাসকে গ্রহণ করছে। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২ শতাংশ মানুষ খ্রিস্টান ধর্মে রূপান্তরিত হয়েছে এবং বৌদ্ধ ধর্মে নতুন বিশ্বাস স্থাপনকারী ৫ শতাংশ। হংকংয়ের ক্ষেত্রে নতুন করে খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণকারীদের হার যথাক্রমে ৯ ও ৪ শতাংশ।

বিবিসি বলছে, আপাতদৃষ্টিতে ধর্ম অস্বীকার করার প্রবণতা বাড়লেও ওই অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ বলে, তারা এখনো আধ্যাত্মিক আচার-অনুষ্ঠান ও অনুশীলনে অংশ নেয়। অবশ্য সেটি পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্যই। তার সঙ্গে ধর্মবিশ্বাসের কোনো সম্পর্ক নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত