কেনিয়ায় কর বৃদ্ধি পাবে এমন একটি আর্থিক প্রস্তাব পাসের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে ২২ জন নিহত হওয়ার পর বিলটি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো। বুধবার (২৬ জুন) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
রুটো বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি কেনিয়ানরা বিলটির সাথে কিছুই করতে চায় না।’ প্রেসিডেন্ট বিলটিতে স্বাক্ষর করবেন না বলে জানিয়েছেন।
কেনিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক জাতীয় কমিশন (কেএনএইচআরসি) জানিয়েছে, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে। খবর বিবিসির।
প্রেসিডেন্ট রুটো জানান, তিনি এখন তরুণদের সাথে সংলাপ করবেন। ২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তারাই দেশটির সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের অগ্রভাগে ছিলেন। রুটো বলেন, জনগণের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত। আমি এই বিলে স্বাক্ষর করব না এবং এটি প্রত্যাহার করা হবে।
এই বিতর্কিত কর বিল পাস হওয়া নিয়ে মঙ্গলবার বিক্ষোভে নামে হাজার হাজার মানুষ। তারা নাইরোবিতে পার্লামেন্টের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পার্লামেন্টের ভেতরেই কাঁদানে গ্যাস ও গুলি চালায় পুলিশ। এতে বিপুল হতাহত হলেও পুলিশ শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্ট থেকে বিক্ষোভকারীদের বের করে দিতে সক্ষম হয়।
করোনা মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ, টানা দুই বছরের খরা এবং মূল্যস্ফীতিসহ বেশ কয়েকটি ধাক্কায় জর্জরিত কেনিয়ার অর্থনীতি। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে কেনিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে সরকার ঋণের বোঝা কমাতে কর অতিরিক্ত ২৭০ কোটি ডলারের বেশি বাড়ানোর বিল অনুমোদন করতে চেয়েছিল। কিন্তু মূল্যস্ফীতির মধ্যেই সরকার কর বৃদ্ধির আইন করতে চাওয়ায় দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ।
ঋণ নিয়ে স্বামী লাপাত্তা, স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করলেন এনজিও কর্মীরা